ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

আড়াই মাসের কাঠমিস্ত্রি, সাত বছরের কারাবাস, তারপর চিকিৎসক

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজশাহীর শরীফ আহমেদ খানের জীবন নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে চিকিৎসক ও বেতার শিল্পীতে রূপ নেওয়ার এক বিস্ময়কর ঘটনা। শৈশবে পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় তাঁর বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজে দিলেও পায়ে পেরেক ঢোকার পর তিনি আবার শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিজ্ঞান বিভাগে সফলতার পর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পান।

পরিবারের চরম আর্থিক সংকট এবং ভাইবোনের সংখ্যা বাড়ার কারণে তাঁর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন হোঁচট খায়। মায়ের কানের সোনার দুল বিক্রি করা অর্থের পাশাপাশি তাঁর ছোট ভাইয়ের ডাকপিয়নের চাকরির সহায়তায় তিনি শেষ পর্যন্ত মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। তবে জীবন তখন বড় এক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, যখন ১৯৭৮ সালের একটি খুনের মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়। সামরিক আদালতের রায়ে তাঁকে ১৯৮৪ সালে কারাগারে যেতে হয় এবং সেখানে তাঁর সাত বছর বন্দিজীবন কাটে।

কারাগারের নির্মম বাস্তবতার মধ্যে পড়াশোনা ও বইয়ের জগতে ডুবে থেকে তিনি মানসিক শক্তি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে এরশাদের পতনের পর মুক্তি পান। ১৯৯১ সালে কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে বাকি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করেন এবং অবশেষে এমবিবিএস পাস করে চিকিৎসক হিসেবে জীবন শুরু করেন। সরকারি চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি বেসরকারি চাকরি ও ব্যক্তিগত সেবামূলক কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সে উপনীত হয়ে তিনি জীবনের এই লড়াই নিয়ে পঁয়তাল্লিশ তেঁত্রিশ নামের একটি আত্মজীবনী লিখেছেন। শুধু তাই নয়, ৭২ বছর বয়সে বাংলাদেশ বেতারের অডিশন দিয়ে তিনি আধুনিক গানের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। জীবনের নানা বাঁকবদল ও কারাজীবনের দীর্ঘ যন্ত্রণা তাঁর লেখা ও সুর করা গানেও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

জনপ্রিয়

মেসিকে নিয়ে বার্সেলোনার আবেগঘন বার্তা

আড়াই মাসের কাঠমিস্ত্রি, সাত বছরের কারাবাস, তারপর চিকিৎসক

প্রকাশিত ১২:২২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজশাহীর শরীফ আহমেদ খানের জীবন নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে চিকিৎসক ও বেতার শিল্পীতে রূপ নেওয়ার এক বিস্ময়কর ঘটনা। শৈশবে পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ায় তাঁর বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজে দিলেও পায়ে পেরেক ঢোকার পর তিনি আবার শিক্ষায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিজ্ঞান বিভাগে সফলতার পর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পান।

পরিবারের চরম আর্থিক সংকট এবং ভাইবোনের সংখ্যা বাড়ার কারণে তাঁর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন হোঁচট খায়। মায়ের কানের সোনার দুল বিক্রি করা অর্থের পাশাপাশি তাঁর ছোট ভাইয়ের ডাকপিয়নের চাকরির সহায়তায় তিনি শেষ পর্যন্ত মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। তবে জীবন তখন বড় এক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, যখন ১৯৭৮ সালের একটি খুনের মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়। সামরিক আদালতের রায়ে তাঁকে ১৯৮৪ সালে কারাগারে যেতে হয় এবং সেখানে তাঁর সাত বছর বন্দিজীবন কাটে।

কারাগারের নির্মম বাস্তবতার মধ্যে পড়াশোনা ও বইয়ের জগতে ডুবে থেকে তিনি মানসিক শক্তি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে এরশাদের পতনের পর মুক্তি পান। ১৯৯১ সালে কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে বাকি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করেন এবং অবশেষে এমবিবিএস পাস করে চিকিৎসক হিসেবে জীবন শুরু করেন। সরকারি চাকরির বয়স পেরিয়ে যাওয়ায় তিনি বেসরকারি চাকরি ও ব্যক্তিগত সেবামূলক কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

বর্তমানে ৭৪ বছর বয়সে উপনীত হয়ে তিনি জীবনের এই লড়াই নিয়ে পঁয়তাল্লিশ তেঁত্রিশ নামের একটি আত্মজীবনী লিখেছেন। শুধু তাই নয়, ৭২ বছর বয়সে বাংলাদেশ বেতারের অডিশন দিয়ে তিনি আধুনিক গানের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছেন। জীবনের নানা বাঁকবদল ও কারাজীবনের দীর্ঘ যন্ত্রণা তাঁর লেখা ও সুর করা গানেও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।