ডেস্ক রিপোর্ট: সিরিয়ার প্রাচীন বন্দরনগরী উগাড়িতের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মানবসভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন লিখিত গান। প্রায় তিন হাজার চারশ বছর পুরনো একটি কাদামাটির ফলক থেকে এই অমূল্য সুর ও রহস্যের সন্ধান মিলেছে। বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের শুরুতে ফরাসি প্রত্নতাত্ত্বিকরা ব্রোঞ্জযুগীয় রাজপ্রাসাদের আর্কাইভ থেকে এই ফলকগুলো আবিষ্কার করেন। এর মধ্যে প্রায় অক্ষত থাকা একমাত্র ফলকটিই ইতিহাসের পাতায় অন্যতম মূল্যবান আবিষ্কার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।
খ্রিস্টপূর্ব চৌদ্দশ অব্দ নাগাদ রচিত এই গানটি মূলত ফলন ও উর্বরতার দেবী নিক্কালকে উৎসর্গ করা হয়েছিল। ফলকটির ওপরের অংশে প্রাচীন হুরিয়ান ভাষায় কিউনিফর্ম লিপিতে এর মূল কথামালা খোদাই করা রয়েছে। এর নিচের অংশেই লুকিয়ে রয়েছে কোডের মতো সুরের সংকেত এবং বাদ্যযন্ত্র সুর বাঁধার নির্দিষ্ট নির্দেশিকা। প্রাচীনকালে বাদ্যযন্ত্র বা কবিতার দেখা মিললেও কোনোটিতেই এমন স্পষ্ট বা সরাসরি সুরের নির্দেশনা ছিল না।
লুপ্তপ্রায় হুরিয়ান ভাষায় লেখা এই গানটির ভেতরের কথাগুলো মূলত দেবীকে নিবেদন করা একটি প্রার্থনা বা দেবীর কাছে আকুতি। কোনো কোনো গবেষক একে সন্তানহীনা তরুণীর উর্বরতা লাভের আকুতি হিসেবেও ব্যাখ্যা করে থাকেন। এছাড়াও প্রাচীন আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত তিল বা তিলের তেল বোঝাতে বিশেষ উপাদানের নৈবেদ্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। ফলকটির রচয়িতা একজন হুরিয়ান লিপিকার হলেও সুনির্দিষ্টভাবে তার নাম এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
দীর্ঘ দশক ধরে এই ফলকের সংকেত গভীর রহস্যে ঢাকা থাকলেও পরবর্তী সময়ে গবেষকরা এর পাঠোদ্ধার করার উপায় খুঁজতে শুরু করেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটিশ পণ্ডিতদের ব্যাখ্যায় ফলকটিতে সুর, লিরিক্স ছাড়াও প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র টিউন করার নির্দেশিকা উঠে আসে। আজকের দিনে এই প্রাচীন সুরটি বিভিন্ন শিল্পীর কণ্ঠে আধুনিক রূপ পেয়েছে এবং অনেকেই এটি পুনর্গঠন করে পরিবেশন করছেন। বৈদ্যুতিক গিটার ও অন্যান্য যন্ত্রের মিশেলে এই প্রাচীন সুরকে পপ সংগীতের আদলে রূপ দেওয়ার পরীক্ষামূলক চেষ্টাও করা হয়েছে।






































