গণমাধ্যম ডেস্ক: বাংলাদেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার অগ্রপথিক এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন শিক্ষক সায়ন্তনী ত্বিষা। পেশাগত জীবনের শুরুতে তৌফিক ভাইয়ের কঠোর নিয়মকানুন ও সাংবাদিকতার নীতিনৈতিকতার পাঠ কীভাবে তার পুরো ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করেছিল, তা তিনি খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছেন। ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে কাজের সুবাদে এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি ও তার সহকর্মীরা।
একটা সময়ে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিইও এবং এডিটর ইন চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তৌফিক ভাই কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও কঠোর একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি কাজের বাইরে হালকা হাসি-ঠাট্টায় সময় না কাটিয়ে সবসময় সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা শেখানোর ওপর জোর দিতেন। তার কর্মশালাগুলোতে স্ক্রিপ্ট লেখার কৌশল, ক্যামেরার ফ্রেমিং, এডিটিং এবং ভিজ্যুয়াল মিডিয়ার ভাষা নিয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। সঠিক সময়ে কথা বলা এবং ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণ নিয়ে তার কঠোর অবস্থান প্রশিক্ষণার্থীদের পরবর্তী পথচলায় বড় ভূমিকা রেখেছে।
লেখিকা জানিয়েছেন, তৌফিক ভাই কেবল তার নয়, আরও অনেকেরই প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ নিয়েছিলেন এবং নানা প্রয়োজনে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি এত ব্যস্ততার মাঝেও সহকর্মী ও জুনিয়রদের ব্যক্তিগত খোঁজখবর রাখতেন এবং স্নেহের দৃষ্টিতে দেখতেন। তৌফিক ভাইয়ের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতে তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও জীবনযাপনের নানা পরামর্শ দিয়েছিলেন। এমনকি বিদায় নেওয়ার সময় তাকে কিছু বই উপহার দিয়ে পহেলা বৈশাখের দাওয়াতও দিয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি লন্ডনে অবস্থানকালে হঠাৎ মারা যান এই বিশিষ্ট গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব, যা তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও অনুসারীদের জন্য ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক। সৌমিক নামের আরেক সহকর্মীর খুদে বার্তার মাধ্যমে তৌফিক ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয়েছিল। মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ১৫ বছরের পেশাগত জীবনের নানা স্মৃতি ও অনুশাসন লেখকের মনে বারবার ফিরে আসছে। মাথার ওপর থেকে অদৃশ্য সেই নির্ভরতার ছায়া সরে যাওয়ায় গভীর শূন্যতা ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।





































