ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনার আহ্বান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের Logo জাপানের সঙ্গে চুক্তির নামে ভারতকে ‘স্বার্থ’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে: আখতার Logo জাপানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে : হুমায়ূন কবির Logo সম্বল নিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে, হারালেন সন্তানকে Logo নিউজরুম বন্ধের ঝুঁকি: মোদীর ‘গোপনীয়তা আইন’ এর বিরুদ্ধে আদালতে সংবাদমাধ্যমগুলো Logo সাফের টিকেট সর্বোচ্চ ১০ হাজার, সর্বনিম্ন ১ হাজার Logo কম্বোডিয়ায় নিয়ে ৫ হাজার ডলারে বিক্রি, চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার Logo মান্ধানার অবনতিতে শীর্ষে ফিরলেন উলভার্ট Logo ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের Logo প্লাস্টিক পণ্যের দাপট, টিকে থাকার লাড়াইয়ে বাঁশ পণ্যের কুটিরশিল্প

৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

অর্থনীতি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো খাতের ব্যয়বহুল বিনিয়োগের সঙ্গে মূলধনী দক্ষতার ভারসাম্য রক্ষা করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত ও যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট কিছু কর্মীর জন্য তারা স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগের প্রস্তাব চালু করেছে। মাইক্রোসফটের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কোম্পানিটির মোট দুই লাখ ২৩ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কর্মী এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বেন, যা তাদের সার্বিক জনবলের প্রায় ২৭ শতাংশ। অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইসহ শীর্ষ কোম্পানিগুলোর ক্লাউড সেবার চাহিদা মেটাতে ডেটা সেন্টারগুলোতে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করায় এই আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে মাইক্রোসফট জানিয়েছিল যে কেবল সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেই তাদের মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল তিন হাজার ৪৯০ কোটি ডলার। এআই খাতে এমন আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে নিজস্ব অর্থসংস্থানের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হওয়ায় কোম্পানিটি এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে মাইক্রোসফট প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল এবং পরবর্তীতে জুলাইয়ে আরও চার হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল। বর্তমান ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে কোম্পানিটি এখন ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে এআই ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বিল নেওয়ার প্রবণতা বাড়াচ্ছে।

কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ স্মারকে মাইক্রোসফটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার এমি কোলম্যান উল্লেখ করেছেন যে তাদের কর্মপদ্ধতিতে আনা ধারাবাহিক পরিবর্তনেরই একটি বড় অংশ এই স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগের প্রস্তাব। তার মতে, এটি কর্মীদের কাজের নমনীয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যতের পথ নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। কোম্পানিটি নিশ্চিত করতে চাইছে যেন তাদের সবচেয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতগুলো পরিচালনা করতে উপযুক্ত জনবল প্রস্তুত থাকে এবং একই সঙ্গে আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী থাকে। সূত্র জানিয়েছে, মার্কেটিং, সেলস ও ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের কিছু অংশ এবারের এই কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার এই প্রস্তাব গ্রহণ করার বিষয়ে কর্মীদের আগামী ডিসেম্বরের শুরুর মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে এবং যারা রাজি হবেন চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর হবে তাদের শেষ কর্মদিবস। জুলাই মাসে মাইক্রোসফটের পূর্ববর্তী স্বেচ্ছায় অবসর কর্মসূচির আওতায় আসার যোগ্য কর্মীদের মধ্যে ত্রিশ শতাংশেরও বেশি সেই সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে সেবার কেবল নির্দিষ্ট পদের কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় থাকলেও নতুন উদ্যোগে পদমর্যাদার পরিধি বাড়িয়ে আরও বড় পরিসরে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এআই খাতের বিপুল ব্যয় ও আর্থিক চাপের মুখে নেওয়া এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত মাইক্রোসফটের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক রূপান্তরে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বিবেচনার আহ্বান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের

৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের

প্রকাশিত ০৮:২২:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো খাতের ব্যয়বহুল বিনিয়োগের সঙ্গে মূলধনী দক্ষতার ভারসাম্য রক্ষা করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত ও যুক্তরাজ্যে নির্দিষ্ট কিছু কর্মীর জন্য তারা স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগের প্রস্তাব চালু করেছে। মাইক্রোসফটের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কোম্পানিটির মোট দুই লাখ ২৩ হাজার কর্মীর মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কর্মী এই প্রস্তাবের আওতায় পড়বেন, যা তাদের সার্বিক জনবলের প্রায় ২৭ শতাংশ। অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইসহ শীর্ষ কোম্পানিগুলোর ক্লাউড সেবার চাহিদা মেটাতে ডেটা সেন্টারগুলোতে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ করায় এই আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

চলতি বছরের জুলাই মাসে মাইক্রোসফট জানিয়েছিল যে কেবল সেপ্টেম্বর প্রান্তিকেই তাদের মূলধনী ব্যয়ের পরিমাণ পাঁচ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল তিন হাজার ৪৯০ কোটি ডলার। এআই খাতে এমন আগ্রাসী বিনিয়োগের কারণে নিজস্ব অর্থসংস্থানের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হওয়ায় কোম্পানিটি এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে মাইক্রোসফট প্রথমবারের মতো স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল এবং পরবর্তীতে জুলাইয়ে আরও চার হাজার ৮০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল। বর্তমান ব্যবসায়িক মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে কোম্পানিটি এখন ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে এআই ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বিল নেওয়ার প্রবণতা বাড়াচ্ছে।

কর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ স্মারকে মাইক্রোসফটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার এমি কোলম্যান উল্লেখ করেছেন যে তাদের কর্মপদ্ধতিতে আনা ধারাবাহিক পরিবর্তনেরই একটি বড় অংশ এই স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগের প্রস্তাব। তার মতে, এটি কর্মীদের কাজের নমনীয়তা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের ভবিষ্যতের পথ নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। কোম্পানিটি নিশ্চিত করতে চাইছে যেন তাদের সবচেয়ে নতুন সম্ভাবনাময় খাতগুলো পরিচালনা করতে উপযুক্ত জনবল প্রস্তুত থাকে এবং একই সঙ্গে আর্থিক কাঠামো শক্তিশালী থাকে। সূত্র জানিয়েছে, মার্কেটিং, সেলস ও ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের কিছু অংশ এবারের এই কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার এই প্রস্তাব গ্রহণ করার বিষয়ে কর্মীদের আগামী ডিসেম্বরের শুরুর মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে এবং যারা রাজি হবেন চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর হবে তাদের শেষ কর্মদিবস। জুলাই মাসে মাইক্রোসফটের পূর্ববর্তী স্বেচ্ছায় অবসর কর্মসূচির আওতায় আসার যোগ্য কর্মীদের মধ্যে ত্রিশ শতাংশেরও বেশি সেই সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন। তবে সেবার কেবল নির্দিষ্ট পদের কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় থাকলেও নতুন উদ্যোগে পদমর্যাদার পরিধি বাড়িয়ে আরও বড় পরিসরে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এআই খাতের বিপুল ব্যয় ও আর্থিক চাপের মুখে নেওয়া এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত মাইক্রোসফটের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক রূপান্তরে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা।