অপরাধ ডেস্ক: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকার আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুইজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানও রয়েছেন। সম্প্রতি গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাহাবুর রহমান এই আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী রেজওয়ান সরকার। আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে বিচারক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম এবং একই ইউনিয়নের চক নারায়ন গ্রামের মোড় সালেহীন আকন্দ। একই মামলায় শ্রী প্রদীপ কুমার এবং রবিউল আকন্দ নামের অপর দুই আসামি আদালতে জামিন আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী শিক্ষিকাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এর আগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছিলেন ওই শিক্ষিকা। সেই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এবং মামলা তুলে নিতে ওই শিক্ষিকাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
মামলার তদন্তে উঠে আসে যে সালেহীন আকন্দ ভুক্তভোগী নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। আর এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামও সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অংশ হিসেবে আসামিরা আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দেন।
নারী শিক্ষিকার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো একটি敏感 ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জড়িত থাকার বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের এই মামলাটি সঠিকভাবে পরিচালনা করে অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আদালতের এই নির্দেশের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন মামলার আইনজীবী।





































