অর্থনীতি ডেস্ক: অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে পরিচিত এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনায় বসছেন বেসরকারি ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে আমদানিকারক ও পরিবেশকেরা তাদের মুনাফার কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। এই প্রস্তাবগুলোর যৌক্তিকতা যাচাই করতে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে একটি গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরেই এলপিজির বাজার প্রায় নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় রয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকারকেরা তাদের কমিশন বর্তমানের তুলনায় দুই থেকে আড়াই গুণ এবং পরিবেশকেরা তিন গুণ বাড়ানোর আবেদন করেছেন। গত বছরের নভেম্বর থেকেই এলপি গ্যাসের বাজারে নানা ধরনের অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পরও গত তিন মাস ধরে পণ্যটির দাম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়নি। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে ভোক্তাদের কাছে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।
বিইআরসির কাছে জমা পড়া নথিপত্র থেকে জানা যায়, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, ডেল্টা ও মেঘনা গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আলাদাভাবে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতা ও পরিবেশকেরাও তাদের কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন। বর্তমানে বাজারে নিবন্ধিত ৩০টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত এলপিজি আমদানি করে থাকে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বসুন্ধরা ও বেক্সিমকোর মতো শীর্ষস্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।
চাহিদার তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হওয়া সত্ত্বেও বাজারে দামের অরাজকতা থামছে না। প্রতি মাসে দেশে প্রায় দেড় লাখ টন গ্যাসের চাহিদা থাকলেও গত কয়েক মাসে তার চেয়ে বেশি পরিমাণে আমদানি করা হয়েছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সম্প্রতি ধর্মঘটের ডাক দিলেও সরকারের হুঁশিয়ারি ও শুনানির তারিখ ঘোষণায় তা প্রত্যাহার করা হয়। বাজারের এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিইআরসির এই গণশুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





































