ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ঢাবিতে ভর্তি হওয়া উচিত নয়: ফজলুর রহমান

ক্যাম্পাস ডেস্ক: জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘অমানুষদের জায়গা’ ও ‘সিনিয়র মাদরাসা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন যে সেখানে কারও ভর্তি হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বক্তব্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথা স্মরণ করেন এবং বিগত দশকগুলোতে শিক্ষা, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান যে একসময় আবুল হোসেন, কাজী মোতাহের হোসেনসহ মুসলিম সাহিত্য সমাজের লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের বিকাশে এই প্রাঙ্গণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এছাড়া জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, নীলিমা ইব্রাহিম, আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ ও হুমায়ূন আহমেদের মতো প্রথিতযশা ব্যক্তিদের স্মৃতিবিজড়িত এই বিদ্যাপীঠের বর্তমান রূপ নিয়ে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।

অতীতে মুক্তচিন্তার বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে বলে অভিযোগ করেন ফজলুর রহমান। ক্যাম্পাসে গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীর ছবি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও অমানুষদের কারখানা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান যে চালচিত্র, তাতে সেখানে পড়াশোনা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং সেখানে শিক্ষকতা করার প্রয়োজন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

একজন জনপ্রতিনিধির এমন কঠোর মন্তব্য দেশের অন্যতম শীর্ষ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশ ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অতীতে দেশের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং এর পতন রোধে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এমন নেতিবাচক মূল্যায়ন জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রে ‘অবৈধ ভোট’ দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

ঢাবিতে ভর্তি হওয়া উচিত নয়: ফজলুর রহমান

প্রকাশিত ০১:৩৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

ক্যাম্পাস ডেস্ক: জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘অমানুষদের জায়গা’ ও ‘সিনিয়র মাদরাসা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেন যে সেখানে কারও ভর্তি হওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর এই বক্তব্য ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বক্তব্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির গৌরবোজ্জ্বল অতীতের কথা স্মরণ করেন এবং বিগত দশকগুলোতে শিক্ষা, মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে এর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান যে একসময় আবুল হোসেন, কাজী মোতাহের হোসেনসহ মুসলিম সাহিত্য সমাজের লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের বিকাশে এই প্রাঙ্গণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এছাড়া জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, নীলিমা ইব্রাহিম, আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ ও হুমায়ূন আহমেদের মতো প্রথিতযশা ব্যক্তিদের স্মৃতিবিজড়িত এই বিদ্যাপীঠের বর্তমান রূপ নিয়ে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।

অতীতে মুক্তচিন্তার বড় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে বলে অভিযোগ করেন ফজলুর রহমান। ক্যাম্পাসে গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীর ছবি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও অমানুষদের কারখানা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান যে চালচিত্র, তাতে সেখানে পড়াশোনা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং সেখানে শিক্ষকতা করার প্রয়োজন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

একজন জনপ্রতিনিধির এমন কঠোর মন্তব্য দেশের অন্যতম শীর্ষ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশ ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। অতীতে দেশের আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং এর পতন রোধে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে এমন নেতিবাচক মূল্যায়ন জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।