ঢাকা ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বায়ুদূষণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বসাবে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন Logo অগ্রাধিকার শেয়ারের লভ্যাংশ নিতে আগাম অনুমতি লাগবে না প্রবাসীদের Logo বাংলালিংকের ‘মুক্ত পে’ চালুর ঘোষণা Logo সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষায় নীতি ও নৈতিকতা বিষয়ক কর্মশালা Logo বিকৃত যৌনতার ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার Logo তিন দিনের সফরে ঢাকায় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী Logo সচল হবে ১৪৬৬টি চিংড়ি মহাল, অপরিশোধিত সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত Logo সংবিধান সংস্কারের দাবিতে অনড় বিরোধীরা, শেষমেশ কী একতরফা সিদ্ধান্ত? Logo ডি-৮ বাণিজ্যের বাধা কাটাতে এফটিএ-পিটিএ বাস্তবায়ন চায় ঢাকা Logo থামছে না পাহাড় কাটা ও অবৈধ পাথর-বালু উত্তোলন, বিপন্ন প্রকৃতি

রাজধানীতে বসছে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা

রাজধানী ডেস্ক: পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশিল্প এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী পঞ্চম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর মিরপুর ১৩ নম্বরের পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এই মেলা বসার কথা রয়েছে। উন্নয়ন সংগঠন ‘নাগরিক উদ্যোগ’ এবং ‘আদিবাসী সুহৃদ’ যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করছে। আগামী ৬ নভেম্বর সকালে সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টল বরাদ্দের ঘোষণা আসার পর থেকেই উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাওয়া গেছে। পার্বত্য অঞ্চলের পাশাপাশি সমতলের মান্দি বা গারো, মনিপুরী, সাঁওতাল ও রাখাইন সম্প্রদায়ের অনেক উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে স্টল বুকিং সম্পন্ন করেছেন। বরাদ্দের ক্ষেত্রে আদিবাসী নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে। শহুরে মানুষের সঙ্গে আদিবাসীদের জুম কৃষি ও ভিন্ন স্বাদের খাবারের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

মেলায় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী তেল ও মশলামুক্ত জনপ্রিয় খাবারগুলো অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। এর মধ্যে পাহাড়ি অঞ্চলের বাঁশ কোড়ল, কলাপাতায় রান্না করা ‘হেবাঙ’, জুমিয়া সবজি এবং জনপ্রিয় ‘পাঁচন’ পদগুলো পাওয়া যাবে। এছাড়া সমতলের মনিপুরী সম্প্রদায়ের স্টলে ডালের তৈরি বিশেষ পদ ‘উতি’ ও বিন্নি চালের ক্ষীর ‘সাঙ্গোম’ এবং রাখাইনদের পক্ষ থেকে বিন্নি চালের পিঠা ও ‘মুন্ডি’ পরিবেশন করা হবে। পাহাড়ি অঞ্চলের জুমের বিষমুক্ত শাকসবজি, কাপ্তাই হ্রদের মাছ, পাহাড়ি মধু ও বিভিন্ন জাতের শুঁটকিও মেলায় বিক্রির জন্য তোলা হবে।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন উল্লেখ করেন যে, উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার বাড়াতে এবং রাজধানীবাসীর কাছে এই সংস্কৃতি তুলে ধরতে টানা পঞ্চম বছরের মতো এই মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজক কমিটির সদস্য মেইনথিন প্রমীলা জানান, বাঙালি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানো এবং বিষমুক্ত কৃষিপণ্য নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। কেনাকাটা ও খাদ্যাভ্যাসের প্রদর্শনী ছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আদিবাসী শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয়

বায়ুদূষণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যবেক্ষণ যন্ত্র বসাবে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন

রাজধানীতে বসছে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা

প্রকাশিত ১১:২২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানী ডেস্ক: পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশিল্প এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী পঞ্চম আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৬ ও ৭ নভেম্বর মিরপুর ১৩ নম্বরের পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এই মেলা বসার কথা রয়েছে। উন্নয়ন সংগঠন ‘নাগরিক উদ্যোগ’ এবং ‘আদিবাসী সুহৃদ’ যৌথভাবে এই মেলার আয়োজন করছে। আগামী ৬ নভেম্বর সকালে সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ খান এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন এবং মেলাটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্টল বরাদ্দের ঘোষণা আসার পর থেকেই উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাওয়া গেছে। পার্বত্য অঞ্চলের পাশাপাশি সমতলের মান্দি বা গারো, মনিপুরী, সাঁওতাল ও রাখাইন সম্প্রদায়ের অনেক উদ্যোক্তা ইতিমধ্যে স্টল বুকিং সম্পন্ন করেছেন। বরাদ্দের ক্ষেত্রে আদিবাসী নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজক কমিটি জানিয়েছে। শহুরে মানুষের সঙ্গে আদিবাসীদের জুম কৃষি ও ভিন্ন স্বাদের খাবারের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

মেলায় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী তেল ও মশলামুক্ত জনপ্রিয় খাবারগুলো অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। এর মধ্যে পাহাড়ি অঞ্চলের বাঁশ কোড়ল, কলাপাতায় রান্না করা ‘হেবাঙ’, জুমিয়া সবজি এবং জনপ্রিয় ‘পাঁচন’ পদগুলো পাওয়া যাবে। এছাড়া সমতলের মনিপুরী সম্প্রদায়ের স্টলে ডালের তৈরি বিশেষ পদ ‘উতি’ ও বিন্নি চালের ক্ষীর ‘সাঙ্গোম’ এবং রাখাইনদের পক্ষ থেকে বিন্নি চালের পিঠা ও ‘মুন্ডি’ পরিবেশন করা হবে। পাহাড়ি অঞ্চলের জুমের বিষমুক্ত শাকসবজি, কাপ্তাই হ্রদের মাছ, পাহাড়ি মধু ও বিভিন্ন জাতের শুঁটকিও মেলায় বিক্রির জন্য তোলা হবে।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন উল্লেখ করেন যে, উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার বাড়াতে এবং রাজধানীবাসীর কাছে এই সংস্কৃতি তুলে ধরতে টানা পঞ্চম বছরের মতো এই মেলা আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজক কমিটির সদস্য মেইনথিন প্রমীলা জানান, বাঙালি ও আদিবাসী সংস্কৃতির মধ্যে মেলবন্ধন ঘটানো এবং বিষমুক্ত কৃষিপণ্য নগরবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। কেনাকাটা ও খাদ্যাভ্যাসের প্রদর্শনী ছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সন্ধ্যায় আদিবাসী শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়েছে।