ঢাকা ০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুদের জন্য ফার্মেসিতেই মিলবে ডানোর নতুন দুধ Logo সেনেট প্রার্থী বাছাই করলেন ট্রাম্প, খেসারত দিল রিপাবলিকানরা Logo পম্পেইয়ের ধ্বংসাবশেষে ২ হাজার বছরের ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্ন Logo দিশার আরও ৭ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ Logo শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক Logo উদয়ন স্কুলে ছাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ, তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ Logo তারেক রহমান- লিউ হাইশিং সাক্ষাৎ: উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সমর্থন ‘অব্যাহত থাকার’ বার্তা চীনের Logo নিম্নতম মজুরি বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান সুবহানী Logo এবার সম্পূর্ণ গল্প নিয়ে ফিরছে ‘ফেউ’ সিরিজ Logo তীব্র তাপপ্রবাহ: অনাগত প্রজন্মের জন্য নীরব বিপদ

তীব্র তাপপ্রবাহ: অনাগত প্রজন্মের জন্য নীরব বিপদ

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব এখন মানবজীবনের সূর্যোদয়ের আগেই শুরু হচ্ছে, যা গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশগত এই সংকট শুধু বর্তমান জীবনযাত্রাকেই কঠিন করে তুলছে না, বরং আগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনাকেও সংকুচিত করছে। গবেষকদের মতে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শিশুর জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।

গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বাংলাদেশে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে হাজার হাজার অতিরিক্ত অপরিণত শিশুর জন্মের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত অপরিণত শিশু জন্ম নিয়েছে বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে গর্ভাবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হয়ে অকালপ্রসব, কম ওজনে জন্ম এমনকি মৃত সন্তান প্রসবের মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটতে পারে।

এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জলবায়ু সংকটের প্রভাব সমাজের সব মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ে না, বরং এর পেছনে তীব্র বৈষম্য রয়েছে। সচ্ছল পরিবারের নারীরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে থেকে চিকিৎসাসেবা পেলেও, দরিদ্র ও শ্রমজীবী নারীদের তীব্র গরমের মধ্যেই কষ্টকর পরিবেশে বসবাস করতে হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও কার্বন নিঃসরণের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয় সেই পরিবারগুলোকে, যারা এই পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী।

তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলায় শুধুমাত্র হিটস্ট্রোকে আক্রান্তদের হিসাব করলেই চলবে না, বরং গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যতের সংকট এড়াতে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাপসহনশীল করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় গাছপালা সংরক্ষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অপরিহার্য।

জনপ্রিয়

ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুদের জন্য ফার্মেসিতেই মিলবে ডানোর নতুন দুধ

তীব্র তাপপ্রবাহ: অনাগত প্রজন্মের জন্য নীরব বিপদ

প্রকাশিত ০২:২২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব এখন মানবজীবনের সূর্যোদয়ের আগেই শুরু হচ্ছে, যা গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশগত এই সংকট শুধু বর্তমান জীবনযাত্রাকেই কঠিন করে তুলছে না, বরং আগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনাকেও সংকুচিত করছে। গবেষকদের মতে, তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই শিশুর জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।

গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিকসের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি বাংলাদেশে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে হাজার হাজার অতিরিক্ত অপরিণত শিশুর জন্মের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই হাজারেরও বেশি অতিরিক্ত অপরিণত শিশু জন্ম নিয়েছে বলে জানা গেছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে গর্ভাবস্থায় জটিলতা সৃষ্টি হয়ে অকালপ্রসব, কম ওজনে জন্ম এমনকি মৃত সন্তান প্রসবের মতো মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটতে পারে।

এই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জলবায়ু সংকটের প্রভাব সমাজের সব মানুষের ওপর সমানভাবে পড়ে না, বরং এর পেছনে তীব্র বৈষম্য রয়েছে। সচ্ছল পরিবারের নারীরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে থেকে চিকিৎসাসেবা পেলেও, দরিদ্র ও শ্রমজীবী নারীদের তীব্র গরমের মধ্যেই কষ্টকর পরিবেশে বসবাস করতে হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও কার্বন নিঃসরণের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয় সেই পরিবারগুলোকে, যারা এই পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী।

তাপপ্রবাহের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলায় শুধুমাত্র হিটস্ট্রোকে আক্রান্তদের হিসাব করলেই চলবে না, বরং গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যঝুঁকিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। ভবিষ্যতের সংকট এড়াতে স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাপসহনশীল করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় গাছপালা সংরক্ষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অপরিহার্য।