স্বাস্থ্য ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তন ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে এশিয়ায় শিশুদের অকাল জন্মের ঝুঁকি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিরো কার্বন অ্যানালিটিকস (জেডসিএ) জানিয়েছে, বাংলাদেশে তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাবে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার অতিরিক্ত অপরিণত শিশুর জন্ম হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সঙ্গে তুলনা করে দেখা গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নেওয়ার এই হার প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলেই প্রায় দেড় হাজার শিশু নির্ধারিত সময়ের আগে জন্ম নিতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত ও ফিলিপিন্সের ওপর চালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে যে তিনটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশেই অপরিণত শিশুজন্মের হার বৃদ্ধির হিসাব সবচেয়ে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী গর্ভধারণের ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগেই জন্ম নেওয়া এসব শিশুর মৃত্যুঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা অনেক বেশি থাকে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই তাপপ্রবাহের প্রভাব দেশের সব অঞ্চলে সমানভাবে অনুভূত হয়নি এবং মোট সংখ্যার প্রায় ৪৭ শতাংশই ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। তবে ঝুঁকি বৃদ্ধির দিক থেকে ময়মনসিংহের পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে উদ্বেগজনক, যেখানে তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরিহার্য জন্মের হারও সর্বোচ্চ ছিল। অন্যদিকে, সিলেটে প্রতি এক হাজার জন্মে অতিরিক্ত শিশুর জন্মের হার বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম রেকর্ড করা হয়েছে।
গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত গরমের ফলে পানিশূন্যতা, রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া এবং প্রদাহের মতো শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে যা অপরিণত প্রসবের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পুষ্টিহীনতা, শারীরিক পরিশ্রম এবং অপর্যাপ্ত বাসস্থানের কারণে গর্ভবতী নারীরা আরও বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এই ঝুঁকি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে নিয়মিত মাতৃস্বাস্থ্য সেবায় তাপ থেকে সুরক্ষার বিষয়টি পরিকল্পিতভাবে যুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় পর্যায়ে সেবা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং আগাম সতর্কবার্তা প্রচারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সঠিক পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে এই ধরনের স্বাস্থ্য সংকট আরও তীব্র হতে পারে বলে গবেষকরা মনে করেন।

































