ডেস্ক রিপোর্ট: প্রাচীন রোমান নগরী পম্পেইয়ের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়ি থেকে প্রায় দুই হাজার বছর ধরে বন্ধ থাকা কাঠের আলমারি উদ্ধার করা হয়েছে। মাউন্ট ভিসুভিয়াসের ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের মুখে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া ওই শহরের অধিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার দুর্লভ নিদর্শন সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে প্রাচীন এই প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ব্যস্ততম ভিয়া দেল আবোনদানজা সড়কের একটি আবাসিক কক্ষ থেকে এই মূল্যবান আলমারিটি খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্ধারকৃত আলমারির ভেতরে মেকআপের নানা সরঞ্জাম, পারফিউমের ছোট কাঁচের বোতল, ধূপদানি ও ব্রোঞ্জের লণ্ঠন সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় উপাদান হিসেবে শিশুদের ব্যবহৃত বিশেষ ধরনের একটি হার পাওয়া গেছে, যাতে দেবতাদের অবয়ব খচিত বিশের অধিক লকেট যুক্ত ছিল। এছাড়া ৩৮টি ব্রোঞ্জের মুদ্রা, রান্নার পাত্র এবং সীসার বাটখারাযুক্ত কাঠের বাক্স মিলেছে, যা থেকে ওই বাড়িতে কোনো ব্যবসায়ীর বসবাস ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, আকস্মিক ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তীব্রতার কারণে বাসিন্দারা তড়িঘড়ি করে নিজেদের অর্থ ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।
পম্পেই প্রত্নতাত্ত্বিক পার্কের পরিচালক গ্যাব্রিয়েল জুখট্রিগেল জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত হারগুলো শিশুদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং অভিভাবকদের কাছে তাদের অবস্থান জানানোর কাজে ব্যবহৃত হতো। এই ধরনের ব্যক্তিগত সামগ্রী বহন করার বিষয়টি তৎকালীন ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অভিবাসী সমাজের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। গবেষকরা ওই বাড়ির ভাণ্ডার থেকে দুটি ইঁদুরের খণ্ডিত কঙ্কালও আবিষ্কার করেছেন। দীর্ঘ সময় আগের সংস্কার প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে এই ভবনের ভেতরের কক্ষগুলোতে নিবিড় অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইতিহাসের আড়ালে ঢাকা পড়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের জীবন ও অর্থনীতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা এখন শহরের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে খননকাজ পরিচালনা করছেন। ভিলা অফ দ্য মিস্ট্রিজ নামের বিখ্যাত এলাকায় ধনাঢ্য মালিকদের বাসস্থানের পরিবর্তে সেবকদের থাকার স্থানগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এর আগে একই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাচীন উষ্ণ স্নানাগার কমপ্লেক্স এবং বন্দি শ্রমিকদের দিয়ে পরিচালিত রুটি তৈরির কারখানার সন্ধান মিলেছিল। এসব ধারাবাহিক আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রাচীন রোমান সভ্যতার অবহেলিত মানুষের দিনযাপনের নানা অজানা অধ্যায় উন্মোচিত হচ্ছে।





































