ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক: নারীদের ঋতুচক্রের মতো পুরুষদেরও পিরিয়ড হয় কি না, তা নিয়ে সমাজ ও ইন্টারনেটে বিভিন্ন সময় নানা আলোচনা দেখা যায়। কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই অনেক পুরুষ তীব্র মেজাজ পরিবর্তন, ক্লান্তি বা মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন, যা নারীদের পিএমএস লক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, নারীদের মতো রক্তস্রাব না হলেও পুরুষদের শরীরেও হরমোনের নিয়মিত ওঠানামা চলে। এই জৈবিক পরিবর্তন তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের শরীরে জরায়ু বা ডিম্বাণু না থাকায় সরাসরি পিরিয়ড হওয়া অসম্ভব। তবে প্রধান যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অনবরত পরিবর্তিত হওয়ায় মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। মনোচিকিৎসক ড. জেড ডায়মন্ড তার গবেষণায় ‘ইরিটেবল মেল সিন্ড্রোম’ বা আইএমএস পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন। অনেকের কাছে এই অবস্থাকে চলতি ভাষায় ‘ম্যান-স্ট্রুয়েশন’ বা পুরুষদের পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে।

একজন সুস্থ পুরুষের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। সাধারণত সকালের দিকে এই হরমোনের মাত্রা উচ্চে থাকে এবং সন্ধ্যার দিকে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, তীব্র মানসিক চাপ, ঘুমহীনতা এবং ওজন বৃদ্ধির কারণেও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়। হরমোনের এই তারতম্যের ফলে ক্লান্তি, রাগ, বিষণ্নতা ও অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তপাত হলে তাকে কখনোই পিরিয়ড ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। এটি প্রোস্টেটের সমস্যা বা মূত্রনালীর মারাত্মক সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এই হরমোনজনিত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

জনপ্রিয়

শীতের আমেজে সুস্থ থাকতে ৬টি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান

পুরুষদেরও পিরিয়ড হয়

প্রকাশিত ০৫:২২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: নারীদের ঋতুচক্রের মতো পুরুষদেরও পিরিয়ড হয় কি না, তা নিয়ে সমাজ ও ইন্টারনেটে বিভিন্ন সময় নানা আলোচনা দেখা যায়। কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই অনেক পুরুষ তীব্র মেজাজ পরিবর্তন, ক্লান্তি বা মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন, যা নারীদের পিএমএস লক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, নারীদের মতো রক্তস্রাব না হলেও পুরুষদের শরীরেও হরমোনের নিয়মিত ওঠানামা চলে। এই জৈবিক পরিবর্তন তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের শরীরে জরায়ু বা ডিম্বাণু না থাকায় সরাসরি পিরিয়ড হওয়া অসম্ভব। তবে প্রধান যৌন হরমোন টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অনবরত পরিবর্তিত হওয়ায় মেজাজ খিটখিটে হতে পারে। মনোচিকিৎসক ড. জেড ডায়মন্ড তার গবেষণায় ‘ইরিটেবল মেল সিন্ড্রোম’ বা আইএমএস পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন। অনেকের কাছে এই অবস্থাকে চলতি ভাষায় ‘ম্যান-স্ট্রুয়েশন’ বা পুরুষদের পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে।

একজন সুস্থ পুরুষের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করে। সাধারণত সকালের দিকে এই হরমোনের মাত্রা উচ্চে থাকে এবং সন্ধ্যার দিকে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যায়। এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, তীব্র মানসিক চাপ, ঘুমহীনতা এবং ওজন বৃদ্ধির কারণেও টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়। হরমোনের এই তারতম্যের ফলে ক্লান্তি, রাগ, বিষণ্নতা ও অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্তপাত হলে তাকে কখনোই পিরিয়ড ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। এটি প্রোস্টেটের সমস্যা বা মূত্রনালীর মারাত্মক সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাবার খাওয়ার মাধ্যমে এই হরমোনজনিত অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।