ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়: ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের শুল্কনীতি রুখতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ জয় লাভ করায় আগামী জানুয়ারি থেকে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যাবে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তদন্ত চালানোর সুযোগ পাবে বিরোধী শিবির। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, শুল্কনীতি, অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা করছে ডেমোক্র্যাটরা। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে ভোটারদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ রিপাবলিকানদের প্রত্যাখ্যান করার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ওপর জোরাল প্রচার চালিয়ে ডেমোক্র্যাটরা এই জনরোষকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেই যে প্রেসিডেন্টের সমস্ত সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া যাবে, তা নিশ্চিত নয়। সেনেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা এবং প্রেসিডেন্টের ভিটো ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ট্রাম্পকে সরাসরি ঠেকানো বেশ জটিল হবে।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ এবং সামরিক তহবিল বরাদ্দ নিয়ে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজেট বিলের মেয়াদ শেষ হলে আইনপ্রণেতারা নতুন সামরিক তহবিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, যা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করবে। তবে পেন্টাগনের হাতে থাকা পূর্বের তহবিল এবং রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাছাড়া যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের সীমাবদ্ধতা এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত সরাসরি বাতিল করা কঠিন হবে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্পের নেওয়া বিতর্কিত শুল্কনীতি এবং এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট পূর্বের শুল্ক বাতিল করলেও ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি উপায়ে শুল্কের হার বাড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ ছাড় এবং শুল্কের লাগাম টানতে নানামুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে নিজের দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের কারণে ট্রাম্প অনেক ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতার তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

জনপ্রিয়

বাংলা কিউআর চালু করল গ্রামীণফোন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়: ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের শুল্কনীতি রুখতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা?

প্রকাশিত ১১:২২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ জয় লাভ করায় আগামী জানুয়ারি থেকে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যাবে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং তদন্ত চালানোর সুযোগ পাবে বিরোধী শিবির। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, শুল্কনীতি, অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা করছে ডেমোক্র্যাটরা। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধাক্কা খেয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে।

মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে ভোটারদের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ রিপাবলিকানদের প্রত্যাখ্যান করার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির ওপর জোরাল প্রচার চালিয়ে ডেমোক্র্যাটরা এই জনরোষকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেই যে প্রেসিডেন্টের সমস্ত সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া যাবে, তা নিশ্চিত নয়। সেনেটে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা এবং প্রেসিডেন্টের ভিটো ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ট্রাম্পকে সরাসরি ঠেকানো বেশ জটিল হবে।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ এবং সামরিক তহবিল বরাদ্দ নিয়ে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বাজেট বিলের মেয়াদ শেষ হলে আইনপ্রণেতারা নতুন সামরিক তহবিল আটকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, যা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করবে। তবে পেন্টাগনের হাতে থাকা পূর্বের তহবিল এবং রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করা সহজ হবে না বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাছাড়া যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের সীমাবদ্ধতা এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত সরাসরি বাতিল করা কঠিন হবে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্পের নেওয়া বিতর্কিত শুল্কনীতি এবং এর ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট পূর্বের শুল্ক বাতিল করলেও ট্রাম্প প্রশাসন বিকল্প আইনি উপায়ে শুল্কের হার বাড়িয়ে দেয়, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস রপ্তানিকারকদের জন্য বিশেষ ছাড় এবং শুল্কের লাগাম টানতে নানামুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে নিজের দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের কারণে ট্রাম্প অনেক ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতার তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।