আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সেনেট নির্বাচনে জয়লাভ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সায়েদ। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সেনেটর হিসেবে আইনসভায় আসন নিশ্চিত করলেন। গত মঙ্গলবার রাতে নিজের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয় সমর্থকদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন তিনি। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং শীর্ষ মার্কিন নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন এই নবনির্বাচিত সেনেটর। নির্বাচনী প্রচারণায় তার বিরুদ্ধে চালানো বিভিন্ন আক্রমণের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
বক্তব্যের সময় আল-সায়েদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্সকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, তার রাজনৈতিক জীবনে দেখা অন্যতম নিকৃষ্ট ও কুরুচিপূর্ণ প্রচারণায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিল তার বিরোধীরা। ট্রাম্পের মন্তব্যগুলোকে ক্রমশ আরও অমার্জিত ও আক্রমণাত্মক বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। যেসব অভিভাবক শিশুদের কাছে রাষ্ট্রপ্রধানের উপহাসমূলক আচরণের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন, তাদের উদ্দেশে তিনি আশার বাণী শোনান। তিনি সমর্থকদের নির্দেশ দেন সন্তানদের জানাতে যে বাজে মানুষেরা এই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার নাম এবং ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে ভিত্তিহীন আক্রমণ চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন আল-সায়েদ। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির জন্য তার নাম বা ধর্ম দায়ী নয় বলে তিনি স্পষ্ট জানান। এছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে কটাক্ষ করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে সংবিধান অনুযায়ী আগামী জানুয়ারিতে ভ্যান্সকেই তাকে শপথ পাঠ করাতে হবে। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একটি চমৎকার পরিহাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝে নিতে বলেন। ইসরায়েল প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন যে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা চান তাদের করের অর্থ যেন দেশের ভেতরেই ব্যয় করা হয়। বর্ণবাদী বা ধ্বংসাত্মক কোনো যুদ্ধে আমেরিকানদের কষ্টের অর্জিত অর্থ অপচয় করা উচিত নয় বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মাইক রজার্সকে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে নিজের জীবন উপভোগ করার পরামর্শ দেন সায়েদ। মিশিগানের মাটিতে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের সংকীর্ণ রাজনীতির পুনরাবৃত্তি না করে, সে প্রার্থনাও করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, মিশিগানে আল-সায়েদের এই বিজয় ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল ধারা দমানোর রিপাবলিকান প্রচেষ্টার ওপর একটি বড় ধাক্কা। ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে দুর্দান্ত জয়ের পর বিরোধীরা তাকে চরম বামপন্থার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। এই ঐতিহাসিক জয় মার্কিন রাজনীতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও প্রগতিশীল শক্তির জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


































