ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো Logo কেন্দ্রীয়ভাবে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজন করবে যবিপ্রবি Logo জাবিতে গাইবান্ধা জেলা সমিতির ইফতার মাহফিল, নবীন-প্রবীণদের মিলনমেলা Logo কুবিতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে গণ-ইফতার  Logo কুবির আর্ট অ্যান্ড হেরিটেজ সোসাইটির নেতৃত্বে মুজাহিদ–লাবিব Logo বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইনক্লুসিভ জাহাঙ্গীরনগর’র ইফতার মাহফিল Logo হাবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা পরিষদের দোয়া ও ইফতার মাহফিল Logo কঠোর সমালোচনা’ না করে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত: ডিএসসিসি প্রশাসক Logo রাবি ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক হিসেবে সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীবের আত্মপ্রকাশ

রুয়েটে যৌন নিপীড়ন : ১ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কৃত ৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েটে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ও আটজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫.০০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারী কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকার এ সংক্রান্ত কমিটির মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমন মজুমদার।

জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী সহপাঠীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য, আক্রমণ এবং অনুমতি ছাড়া গোপনে ছবি ধারণের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবার নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ ছিল। ভুক্তভোগীরা প্রথমে বিভাগীয় প্রধান এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রুয়েটের ডিসিপ্লিনারি অর্ডিন্যান্সের ৬নং ধারায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সুমন মজুমদারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ০৮ (আট) জন শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে সহযোগিতার অভিযোগে তিন শিক্ষাবর্ষের জন্য এবং উস্কানিদাতা পাঁচজনকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে আটজনকে আজীবনের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের চারিত্রিক সনদ (ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট) প্রদান করবে না বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে এবং এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রুয়েট নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার; ক্যাম্পাসে এ ধরনের আচরণের কোনো স্থান নেই।”

উল্লেখ্য, এর আগে অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বহিষ্কারের দাবিতে কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা তখন অভিযোগ করেন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আন্দোলনের সময় ছাত্রকল্যাণ দপ্তর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছিল।

জনপ্রিয়

রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো

রুয়েটে যৌন নিপীড়ন : ১ শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কৃত ৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

প্রকাশিত ১০:০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েটে) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ও আটজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫.০০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারী কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. মো: রবিউল ইসলাম সরকার এ সংক্রান্ত কমিটির মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমন মজুমদার।

জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী সহপাঠীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য, আক্রমণ এবং অনুমতি ছাড়া গোপনে ছবি ধারণের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবার নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ ছিল। ভুক্তভোগীরা প্রথমে বিভাগীয় প্রধান এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রুয়েটের ডিসিপ্লিনারি অর্ডিন্যান্সের ৬নং ধারায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সুমন মজুমদারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ০৮ (আট) জন শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে সহযোগিতার অভিযোগে তিন শিক্ষাবর্ষের জন্য এবং উস্কানিদাতা পাঁচজনকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে আটজনকে আজীবনের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের চারিত্রিক সনদ (ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট) প্রদান করবে না বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে এবং এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রুয়েট নারী শিক্ষার্থী নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার; ক্যাম্পাসে এ ধরনের আচরণের কোনো স্থান নেই।”

উল্লেখ্য, এর আগে অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বহিষ্কারের দাবিতে কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা তখন অভিযোগ করেন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আন্দোলনের সময় ছাত্রকল্যাণ দপ্তর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছিল।