জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-কে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে স্মারকলিপি দিয়েছেন একদল সচেতন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিসে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, জাকসু শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এটিকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সংগঠনটির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থাও নষ্ট হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, জাকসু কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ রক্ষার জায়গা নয়; এটি সকল শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান। তাই এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এসময় শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো জাকসুর নাম, প্যাড ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করা; পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং জাকসুর সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী কম্পিউটার সাইন্স এ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগ ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আঞ্জুমান ইকরা বলেন, “সম্প্রতি জাকসুর ব্যানারে একটি কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এটি জাকসুর ক্ষমতার সীমা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। এটি কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, নাকি একটি রাজনৈতিক অবস্থান চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা।”
জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুবেল বলেন, “জাকসু নির্বাচনের পর থেকে একটি গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে জাকসুকে ব্যবহার করছে এবং বিভিন্ন বিবৃতি ও কর্মসূচির মাধ্যমে বিতর্কিত ন্যারেটিভ তৈরির চেষ্টা করছে, যা নিরপেক্ষ ছাত্র প্রতিনিধিত্বের পরিপন্থী।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আসন্ন সেমিনারের শিরোনাম ব্যবহার করে নির্বাচিত সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে, যা একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উদ্যোগ। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে দ্রুত এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধের দাবি জানান এবং সতর্ক করেন, অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”





























