নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচির সূচনা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
বৃক্ষরোপণ শেষে পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, গবেষক, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রীন ভয়েস’-এর কর্মীদের অংশগ্রহণে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের গ্যালারি কক্ষে পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে একটি বিশেষজ্ঞ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাবীবুর রহমান। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও ‘গ্রীন ভয়েস’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আহসান হাবিব আয়োজনটিকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উল্লেখ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের সংকটের মতো বিষয়গুলো আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। আমাদেরকে পরিবেশ রক্ষায় করণীয়, টেকসই জীবনযাপন এবং প্রকৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।”
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “পরিবেশ, প্রাণ ও প্রকৃতি বাঁচাতে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। শুধু পরিবেশ দিবসেই নয়, সারাবছরই আমাদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত।”
উল্লেখ্য, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক এবং পরিবেশকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।































