বরিশালের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব জাফর ইমাম সিকদার, যিনি ইমাম জাফর সিকদার নামে সমধিক পরিচিত। ছাত্রজীবন থেকে নেতৃত্বের গুণাবলি, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে তিনি একটি শক্ত অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি অটল অঙ্গীকার, সমাজসেবার প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা তাঁকে বরিশাল ও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই ইমাম জাফর সিকদার ছাত্ররাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। কলেজে ভর্তি হওয়ার আগেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে শুরু করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে তিনি দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিজেকে যুক্ত রাখেন। পরবর্তীতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক ধারার প্রতি সমর্থন ও আনুগত্য বজায় রেখে মাঠে সক্রিয় থেকেছেন।
ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্র সংসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) নির্বাচিত হন। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, শিক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি সে সময় একজন মেধাভিত্তিক, সাহসী ও কর্মীবান্ধব ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি মানবিক ও সেবাধর্মী কর্মকাণ্ডেও ইমাম জাফর সিকদারের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ‘যুব ও স্বেচ্ছাসেবক (Youth & Volunteers)’ বিভাগ, ‘দুর্যোগ ও সংকট ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা (DCRM)’ বিভাগ এবং পরবর্তীতে ‘ইউনিট অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দুর্যোগ মোকাবিলা, স্বেচ্ছাসেবক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব সুধীসমাজে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
রেড ক্রিসেন্টে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের কারণে দীর্ঘ সময় দলীয় পদ গ্রহণ না করলেও বিএনপির বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে তিনি সবসময়ই সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে নির্বাচনের সময়ে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সাংগঠনিক ও প্রচার কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। পদ-পদবি বা ব্যক্তিগত সুবিধার চেয়ে দলীয় আদর্শ ও সংগঠনকে শক্তিশালী করাকেই তিনি সর্বাধিকার দিয়ে থাকেন।
নিজের এলাকা পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে গেলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগসূত্র রক্ষা করেন ইমাম জাফর সিকদার। স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা শোনা, সামাজিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে তোলা এবং নতুন নেতৃত্ব গঠনেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মতে, দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা, মানবিক সংগঠনে কাজের দক্ষতা এবং তৃণমূলের সাথে নিবিড় সম্পর্ক ইমাম জাফর সিকদারকে একজন পরিপক্ক সংগঠকে রূপ দিয়েছে। ভবিষ্যতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো দায়িত্ব বা মনোনয়ন পেলে তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি ও এলাকার উন্নয়নে আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।


































