ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাকৃবিতে আবাসিক হলে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় জোড়া তদন্ত কমিটি গঠন Logo হুট করে বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন নোবিপ্রবি উপাচার্যের Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসনের সাথে কবি নজরুল কলেজ শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় Logo নতুন গান ‘তোমার কলরব’ নিয়ে ফিরলেন মিলানা মমিন Logo জাবিতে ছাত্রশিবিরের ‘জুলাই অভ্যুত্থান রান ২০২৬ ’ মিনি ম্যারাথন Logo দুই হলের সংঘর্ষের জেরে সোহরাওয়ার্দী হলের এক শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে মারধরের অভিযোগ Logo জাবির ২২ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ৩২ গবেষণাপত্র প্রত্যাহার, গবেষণার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন Logo কুবিতে নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ ছাত্রশক্তির ৫ দফার স্মারকলিপি Logo হাবিপ্রবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষার মান উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি Logo কুবিতে দুই ছিনতাইকারী আটক, মুচলেকায় মুক্তি

উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাকৃবিতে দুই হলে মাঝে সংঘর্ষ, আহত ৫

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২ আগস্ট) মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ১ম বর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেসেঞ্জারের একটি গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি পরে অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্যের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় মোট ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার দায়িত্বরত চিকিৎসক ড. আমিনুল মতিন। তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন শিক্ষার্থী সামান্য আহত অবস্থায় হেলথ কেয়ারে আসেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাওলানা ভাসানী হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা অঞ্চলভিত্তিক প্রভাব বিস্তার পর্যায়ে চলে যায়। বগুড়া (ভাসানী হলের শিক্ষার্থী) জেলা ও জামালপুর (সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী) জেলার শিক্ষার্থীদের আধিপত্য ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় সোহরাওয়ার্দী হলের জামালপুরের এক শিক্ষার্থী ভাসানী হলের বগুড়ার এক শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন ” বগুড়া থেকে এসেছিস সরাসরি বগুড়ার প্যাকেট করে পাঠায় দিবো” । এই উক্তির জেরে পুরো হল জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে গেলে সেখানে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।’

একই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে মাওলানা ভাসানী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে আসেন। তারা হলের ফটকে এসে অবস্থান নেয় এবং উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। এসময় উত্তেজিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও হলের ফটকে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের ওপর আকস্মিক আক্রমন শুরু করে ভাসানী হলে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে হলের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে বের হলে তাদের উপরেও আক্রমণ করা হয়, এর মাধ্যমেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ চলতে থাকে।’

ঘটনার বিষয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, ‘এই ধরনের ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এতো বড় পরিসরে হাতাহাতি খুবই দুঃখজনক বিষয়। এতে বিশ্বমঞ্চে আমাদের বিশ্ববিদ্যলয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সবার উচিত সংঘাতের যাওয়ার আগে সহনশীলতার সাথে চিন্তা করে এগুলা নিজেদের মাঝে সমাধান করে নেওয়া। যারা এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

মাওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, ‘দুই হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ভাসানী হলের একজনের কপাল কেটে গেছে এবং অনেকের গায়ে ইটের আঘাত লেগেছে। সংঘর্ষের কারণে হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। এগুলো তো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। হল প্রশাসন এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। উপাচার্যকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিবরণসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘এধরনের ঘটনাগুলো নিয়ে আমি নিজেও খুবই চিন্তিত। আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত করব। এটা নিশ্চিত করছি যে, এর সাথে জড়িত সকলকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

জনপ্রিয়

বাকৃবিতে আবাসিক হলে পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় জোড়া তদন্ত কমিটি গঠন

উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বাকৃবিতে দুই হলে মাঝে সংঘর্ষ, আহত ৫

প্রকাশিত ১২:৫২:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২ আগস্ট) মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ১ম বর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেসেঞ্জারের একটি গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শুরু হওয়া কথাকাটাকাটি পরে অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্যের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় মোট ৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার দায়িত্বরত চিকিৎসক ড. আমিনুল মতিন। তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন শিক্ষার্থী সামান্য আহত অবস্থায় হেলথ কেয়ারে আসেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাওলানা ভাসানী হলের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা অঞ্চলভিত্তিক প্রভাব বিস্তার পর্যায়ে চলে যায়। বগুড়া (ভাসানী হলের শিক্ষার্থী) জেলা ও জামালপুর (সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী) জেলার শিক্ষার্থীদের আধিপত্য ও প্রভাবকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় সোহরাওয়ার্দী হলের জামালপুরের এক শিক্ষার্থী ভাসানী হলের বগুড়ার এক শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন ” বগুড়া থেকে এসেছিস সরাসরি বগুড়ার প্যাকেট করে পাঠায় দিবো” । এই উক্তির জেরে পুরো হল জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে গেলে সেখানে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।’

একই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে মাওলানা ভাসানী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে আসেন। তারা হলের ফটকে এসে অবস্থান নেয় এবং উস্কানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। এসময় উত্তেজিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও হলের ফটকে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের ওপর আকস্মিক আক্রমন শুরু করে ভাসানী হলে শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে হলের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে বের হলে তাদের উপরেও আক্রমণ করা হয়, এর মাধ্যমেই দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ চলতে থাকে।’

ঘটনার বিষয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, ‘এই ধরনের ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এতো বড় পরিসরে হাতাহাতি খুবই দুঃখজনক বিষয়। এতে বিশ্বমঞ্চে আমাদের বিশ্ববিদ্যলয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সবার উচিত সংঘাতের যাওয়ার আগে সহনশীলতার সাথে চিন্তা করে এগুলা নিজেদের মাঝে সমাধান করে নেওয়া। যারা এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

মাওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, ‘দুই হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ভাসানী হলের একজনের কপাল কেটে গেছে এবং অনেকের গায়ে ইটের আঘাত লেগেছে। সংঘর্ষের কারণে হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। এগুলো তো রাষ্ট্রীয় সম্পদ। হল প্রশাসন এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। উপাচার্যকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিবরণসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘এধরনের ঘটনাগুলো নিয়ে আমি নিজেও খুবই চিন্তিত। আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত করব। এটা নিশ্চিত করছি যে, এর সাথে জড়িত সকলকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।