দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতে নাগরিক হিসেবে পরিচিত একটি দলকে পুশ ইনের চেষ্টা চালিয়েছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। নির্দিষ্ট এলাকায় রাতে এই অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তা টের পান। পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অর্থাৎ বিজিবি ও সীমান্তবর্তী গ্রামের সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাদের এই কঠোর অবস্থানের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফের সদস্যরা।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর বিওপির আওতাধীন গোবিন্দপুর সীমান্তের ২৮৯ নম্বর মেইন পিলারের সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকায়। দাউদপুর বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার মো. মাহাবুর রহমান গণমাধ্যমের কাছে এই অনধিকার প্রবেশের চেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের বেলা কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দলকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছিল বিএসএফ। তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা শুরুতেই ব্যর্থ হয়ে যায়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রাতে ওই সীমান্ত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ও সতর্কতা বিরাজ করছে। গ্রামের পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও হাতে লাঠি নিয়ে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেন। স্থানীয় তরুণ ও যুবকরা জানান, রাতে মাঠে থাকা অবস্থায় তারা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে চিৎকার শুরু করলে বিজিবি ও গ্রামবাসীরা দ্রুত জড়ো হন। বাধা পেয়ে বিএসএফ বাধ্য হয়ে দলটিকে আবার ভারতীয় সীমানায় ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শূন্যরেখায় বসবাসকারী এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ওই দলে প্রায় ২৮ জন ব্যক্তি ছিলেন যাদের মধ্যে চারজন নারী ও ২৪ জন পুরুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এছাড়া অনুপ্রবেশের চেষ্টাকারীদের ওই দলে কিছু বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ সদস্যও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। প্রথম দফায় ব্যর্থ হওয়ার পর তারা অন্য একটি পয়েন্ট দিয়ে পুনরায় প্রবেশের চেষ্টা চালালেও গ্রামবাসীদের বাধার মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়।
এই ঘটনার পর থেকে পুরো সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বিজিবির পাশাপাশি গ্রামবাসীও নিজ উদ্যোগে পাহারা দিচ্ছেন। দাউদপুর বিওপির নায়েব সুবেদার মাহাবুর রহমান জানিয়েছেন যে, সীমান্তবাসীর সহযোগিতায় এই পুশ ইনের অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়রা যৌথভাবে কড়া নজরদারি বজায় রেখেছেন।


































