সাধারণ মানুষের ধারণায় খেঁকশিয়াল এবং পাতিশিয়ালকে প্রায়ই একই প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এর মূল কারণ হলো বাংলা ভাষায় ‘শিয়াল’ শব্দটি ফক্স গোত্রের যেকোনো প্রাণীকে বোঝাতেই সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়। তবে এই দুই প্রজাতির মধ্যে শারীরিক গঠন ও আচরণগত বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে, যা বন্যপ্রাণী গবেষকরা বারবার চিহ্নিত করে আসছেন।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং বিশেষ করে কৃষিকাজে খেঁকশিয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এরা জমির ক্ষতিকর পোকা-মাকড়, ইঁদুর ও বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ খেয়ে বেঁচে থাকে, যা কৃষকদের ফসল রক্ষায় সরাসরি সাহায্য করে। এই বিশেষ উপযোগিতার কারণেই প্রাচীনকাল থেকেই এই চতুর প্রাণীটিকে অত্যন্ত যথাযথভাবে ‘কৃষকের বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে আসছে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের পরিবেশের এই উপকারী প্রাণীটি এখন বাংলাদেশ থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন, কৃষিজমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে এদের বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি, মানুষের সাথে সংঘাত এবং ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে প্রাণীটি নিধনের ঘটনাও এদের সংখ্যা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ।
আমাদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থেই খেঁকশিয়ালের মতো উপকারী বন্যপ্রাণীদের রক্ষার বিষয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে একসময় এই চতুর ও উপকারী প্রাণীটি আমাদের দেশ থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবেশের স্বাভাবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এদের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং সুরক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।





































