বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বিভিন্ন বিভাগের ২৩ জন শিক্ষক অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। তবে বিবিএ ফ্যাকাল্টির প্রথম পিএইচডি হোল্ডার মো. কাইয়ুম হাসানকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত পদোন্নতি বোর্ডের সভায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় বিষয়টি অনুমোদন করা হয়। তবে পদোন্নতির প্রক্রিয়া ও মো. কাইয়ুম হাসানের পদোন্নতি না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ড. প্রবীর কুমার ভৌমিক এবং মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. জামাল উদ্দীন রয়েছেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. সাদেকুর রহমান ও ড. তারেক মাহমুদ আবীর, লোক প্রশাসন বিভাগের ড. ইসরাত জাহান এবং কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. হাফিজ আশরাফুল হক অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
এ ছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. সুব্রত কুমার দাস, ইতিহাস বিভাগের ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ড. ধীমান কুমার রায় এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল পদোন্নতি পেয়েছেন।
রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষক ড. গাজী জহিরুল ইসলাম, ড. হালিমা বেগম, ড. মো. নাজমুল কায়েস ও ড. মো. মাসুদ পারভেজ অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।
গণিত বিভাগের পদোন্নতিপ্রাপ্ত চার শিক্ষক হলেন—ড. মো. শফিউল আলম, ড. মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, ড. বিজন কৃষ্ণ সাহা ও ড. হেনা রানী বিশ্বাস।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের পাঁচ শিক্ষক হলেন—ড. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড. আজিজুর রহমান, ড. সোহেল চৌধুরী ও ড. মো. আলমগীর মোল্লা।
তবে,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের করা বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্যে দাবি করা হয়েছে, অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়া কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। এরপরও মো. কাইয়ুম হাসানকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, পদোন্নতির ক্ষেত্রে সবার জন্য একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত। রাজনৈতিক পরিচয় বা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষককে বঞ্চিত করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ২৩ জন শিক্ষক অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেলেও কাইয়ুম হাসানের পদোন্নতি না পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও অভিযোগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বক্তব্যই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


































