ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo শরতের আবহে জাবিতে নবীনবরণ, নাট্যোৎসবে ‘বিধিবাম’ মঞ্চায়িত Logo দশ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় Logo ধর্মীয় ‘স্পর্শকাতর’ স্ট্যাটাস-মিম, জাবি শিক্ষার্থীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা প্রশাসনের Logo ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির Logo প্রজনন স্বাস্থ্যে নতুন প্রযুক্তির সূচনায় হাত মেলাল গুগল ও ফ্লো Logo ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান ২ ব্রিটিশ আইনজীবী Logo অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে সোবহানা-নিগারের লাফ Logo ওয়েলসে মিলল রোমান দুর্গ: সত্যি ছিল সম্রাটের ঘাঁটির উপাখ্যান Logo বিরোধী দল না এলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে: সালাহউদ্দিন Logo হেনস্তার ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. ইউনূস, জানালেন সফরসঙ্গী

আয়নাবাজি: দক্ষিণ কোরিয়ায় থেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ, পরে ধরা পড়ল জালিয়াতি

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকার একটি মারামারির মামলায় চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মামলার প্রধান আসামি ফিরোজ আলম শাওন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করলেও আদালতের নথিপত্রে দেখা যায় তিনি হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন। মূলত শাওনের পরিবর্তে অন্য এক ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে এই ভুয়া জামিন নেওয়া হয়েছিল, যা চলচ্চিত্রজগতের আয়নাবাজির কাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আদালতের কার্যক্রমে জালিয়াতির এই বিষয়টি ধরা পড়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রতিবেশী মুন্সি তরিকুল আমিনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে শাওন ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে দিঘলিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শেষে শুধু শাওনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে এবং বর্তমানে মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। তবে মামলার কার্যক্রম চলাকালে বাদী পক্ষ জানতে পারে যে শাওন সশরীরে উপস্থিত না থেকেও জামিন নিয়ে ফেলেছেন। বাদীপক্ষ আদালতকে নিশ্চিত করে যে মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি তখনো বিদেশে অবস্থান করছেন এবং তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে দেশে আসেননি।

বাদীর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন এবং পাসপোর্টের তথ্যসহ নানা নথিপত্র যাচাই করে জালিয়াতির সত্যতা পান। আদালতে স্পষ্ট হয় যে ১৬ মার্চ যখন জামিন নেওয়া হয়, তখন শাওন নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলেন। এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে খুলনা সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ শাওনের ভাই ফেরদৌস আলমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে এবং মামলার অন্য আসামি আইনজীবী আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। ভিন দেশে বসে অন্যের মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন নেওয়ার এই অভিনব প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার মূল আসামি বিদেশে থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বা আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

জনপ্রিয়

শরতের আবহে জাবিতে নবীনবরণ, নাট্যোৎসবে ‘বিধিবাম’ মঞ্চায়িত

আয়নাবাজি: দক্ষিণ কোরিয়ায় থেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ, পরে ধরা পড়ল জালিয়াতি

প্রকাশিত ১১:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি এলাকার একটি মারামারির মামলায় চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মামলার প্রধান আসামি ফিরোজ আলম শাওন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থান করলেও আদালতের নথিপত্রে দেখা যায় তিনি হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন। মূলত শাওনের পরিবর্তে অন্য এক ব্যক্তিকে দাঁড় করিয়ে এই ভুয়া জামিন নেওয়া হয়েছিল, যা চলচ্চিত্রজগতের আয়নাবাজির কাহিনীর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। আদালতের কার্যক্রমে জালিয়াতির এই বিষয়টি ধরা পড়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রতিবেশী মুন্সি তরিকুল আমিনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে শাওন ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে দিঘলিয়া থানা পুলিশ তদন্ত শেষে শুধু শাওনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে এবং বর্তমানে মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। তবে মামলার কার্যক্রম চলাকালে বাদী পক্ষ জানতে পারে যে শাওন সশরীরে উপস্থিত না থেকেও জামিন নিয়ে ফেলেছেন। বাদীপক্ষ আদালতকে নিশ্চিত করে যে মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি তখনো বিদেশে অবস্থান করছেন এবং তিনি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে দেশে আসেননি।

বাদীর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন এবং পাসপোর্টের তথ্যসহ নানা নথিপত্র যাচাই করে জালিয়াতির সত্যতা পান। আদালতে স্পষ্ট হয় যে ১৬ মার্চ যখন জামিন নেওয়া হয়, তখন শাওন নিশ্চিতভাবেই দক্ষিণ কোরিয়ায় ছিলেন। এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতের নির্দেশে খুলনা সদর থানায় একটি প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ শাওনের ভাই ফেরদৌস আলমকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে এবং মামলার অন্য আসামি আইনজীবী আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করার অসৎ উদ্দেশ্যে এই জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। ভিন দেশে বসে অন্যের মাধ্যমে আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন নেওয়ার এই অভিনব প্রতারণার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মামলার মূল আসামি বিদেশে থাকায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বা আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।