ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকী উপাচার্য শীতল, বললেন হাতে থাকা সময়টুকুই বড় সম্পদ Logo ১২ ফুট অজগর উদ্ধার, টিলাগড়ের বনে অবমুক্ত Logo পারমাণবিক যুদ্ধ ও এআই ঝুঁকিতে মানবজাতি: ল্যানসেট Logo ‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আত্মকথা’ লিখতে চেয়েছিলাম Logo ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন করে বন্ধুত্বের প্রমাণ দিক ভারত: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী Logo হাড়ের যত্ন শুরু হোক চল্লিশের আগেই Logo নজর এড়ানো কিছু বিষয় যেভাবে বাড়ায় মানসিক চাপ Logo পাঁচ মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী এনামুরের জামিন স্থগিত Logo রবীন্দ্রনাথের ছবি মোছার চেষ্টা: আয়াসসহ ৪ জনকে রিমান্ডে চায় পুলিশ Logo সাউথ এশিয়ান ট্রাভেল অ্যাওয়ার্ডে ‘গোল্ড’ জিতল ক্রাউন প্লাজা ঢাকা

নজর এড়ানো কিছু বিষয় যেভাবে বাড়ায় মানসিক চাপ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: প্রতিযোগিতামূলক জীবনে মানসিক অবসাদের কারণ হিসেবে সাধারণত বড় ধরনের সংকট বা পারিবারিক কলহকে দায়ী করা হলেও, ছোট কিছু অদৃশ্য ঘটনাও নীরਬে স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক সাময়িকী ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের সূক্ষ্ম মানসিক চাপ বা সাবটল স্ট্রেসরগুলো অবচেতনভাবে শরীরে কর্টিসল হরমোন ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মানুষ দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা ক্রনিক ফ্যাটিগের মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়।

চোখের সামনে পড়ে থাকা বিলের কাগজ বা ইমেইলের উত্তর দেওয়ার মতো ছোট ছোট অসমাপ্ত কাজগুলো প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়। মার্কিন চিকিৎসক ডা. সোমা মন্ডল জানান, অবচেতন মন এই অসম্পূর্ণ কাজগুলোকে জেইগারনিক ইফেক্টের মাধ্যমে ভেতরে ভেতরে টোকা দিতে থাকে। মনস্তত্ত্বের এই প্রক্রিয়াটি মানুষের মস্তিষ্কের শক্তি গোপনে শুষে নিতে থাকে। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে পাঁচ মিনিটের কম সময় লাগে এমন কাজগুলো সঙ্গে সঙ্গে শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া ডিজিটাল অবহেলা এবং অনবরত তথ্যের চাপ মস্তিষ্ককে সার্বক্ষণিকভাবে একটি কাল্পনিক বিপদের মুখোমুখি করে রাখে। ফোনে বিভিন্ন নোটিফিকেশন বা অপ্রয়োজনীয় মেসেজের ভাইব্রেশন স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল হতে দেয় না। এর সমাধানে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখা এবং কাজের সময় নির্দিষ্ট অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। নিজের ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও অন্যদের খুশি করতে অতিরিক্ত কাজের দায়িত্বে হ্যাঁ বলে দেওয়াও মনের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, ঘরের কোণে স্তূপ করে রাখা কাপড় কিংবা চারপাশের বিশৃঙ্খল পরিবেশও চোখের স্নায়ুগুলোকে অনবরত ব্যস্ত রাখে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সোনাল চন্দ্রের মতে, প্রতিদিন সকালে মাত্র দশ মিনিট সময় নিয়ে চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখলে মস্তিষ্কের চিন্তার জট খোলে। শরীরের প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে দেহকে শান্ত রাখে এবং দিনটিকে ফলপ্রসূ করে তোলে। বিনীতভাবে না বলতে শেখা এবং নিজের সীমানা নির্ধারণ করা মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি কার্যকর কৌশল।

জনপ্রিয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকী উপাচার্য শীতল, বললেন হাতে থাকা সময়টুকুই বড় সম্পদ

নজর এড়ানো কিছু বিষয় যেভাবে বাড়ায় মানসিক চাপ

প্রকাশিত ০৫:২২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

স্বাস্থ্য ডেস্ক: প্রতিযোগিতামূলক জীবনে মানসিক অবসাদের কারণ হিসেবে সাধারণত বড় ধরনের সংকট বা পারিবারিক কলহকে দায়ী করা হলেও, ছোট কিছু অদৃশ্য ঘটনাও নীরਬে স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও জীবনধারা বিষয়ক সাময়িকী ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের সূক্ষ্ম মানসিক চাপ বা সাবটল স্ট্রেসরগুলো অবচেতনভাবে শরীরে কর্টিসল হরমোন ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মানুষ দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা ক্রনিক ফ্যাটিগের মতো সমস্যার মুখোমুখি হয়।

চোখের সামনে পড়ে থাকা বিলের কাগজ বা ইমেইলের উত্তর দেওয়ার মতো ছোট ছোট অসমাপ্ত কাজগুলো প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়। মার্কিন চিকিৎসক ডা. সোমা মন্ডল জানান, অবচেতন মন এই অসম্পূর্ণ কাজগুলোকে জেইগারনিক ইফেক্টের মাধ্যমে ভেতরে ভেতরে টোকা দিতে থাকে। মনস্তত্ত্বের এই প্রক্রিয়াটি মানুষের মস্তিষ্কের শক্তি গোপনে শুষে নিতে থাকে। এই সমস্যা থেকে বাঁচতে পাঁচ মিনিটের কম সময় লাগে এমন কাজগুলো সঙ্গে সঙ্গে শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া ডিজিটাল অবহেলা এবং অনবরত তথ্যের চাপ মস্তিষ্ককে সার্বক্ষণিকভাবে একটি কাল্পনিক বিপদের মুখোমুখি করে রাখে। ফোনে বিভিন্ন নোটিফিকেশন বা অপ্রয়োজনীয় মেসেজের ভাইব্রেশন স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল হতে দেয় না। এর সমাধানে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখা এবং কাজের সময় নির্দিষ্ট অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। নিজের ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও অন্যদের খুশি করতে অতিরিক্ত কাজের দায়িত্বে হ্যাঁ বলে দেওয়াও মনের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে, ঘরের কোণে স্তূপ করে রাখা কাপড় কিংবা চারপাশের বিশৃঙ্খল পরিবেশও চোখের স্নায়ুগুলোকে অনবরত ব্যস্ত রাখে। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সোনাল চন্দ্রের মতে, প্রতিদিন সকালে মাত্র দশ মিনিট সময় নিয়ে চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখলে মস্তিষ্কের চিন্তার জট খোলে। শরীরের প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে দেহকে শান্ত রাখে এবং দিনটিকে ফলপ্রসূ করে তোলে। বিনীতভাবে না বলতে শেখা এবং নিজের সীমানা নির্ধারণ করা মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি কার্যকর কৌশল।