ঢাকা ০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা এলাকা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন যে শেরপুরসহ জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব থাকা অঞ্চলগুলোর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার রূপসী বাংলা হলে রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ও সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বর্তমান সরকার একযোগে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নেত্রকোণা ও হাওর অঞ্চলের সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ককাস গঠনের মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং এর যৌক্তিকতা সবিস্তারে তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ও নীতিনির্ধারণী উদ্যোগের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের সামনে উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ককাসের চেয়ারপারসন ও সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অভিবাসন ও রেমিট্যান্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে পরিবারের দূরে থাকা মানুষ ও তরুণের স্বপ্নসহ নানা মানবিক গল্প লুকিয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন যে দেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হলো রেমিট্যান্স, তবে অভিবাসনের মূল মানদণ্ড হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট উপার্জনকারী মানুষের প্রকৃত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিরাপদ, ন্যায়সঙ্গত এবং সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসনকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও বেশি স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জোরালো মতামত ব্যক্ত করেন। অভিবাসীদের জন্য সঠিক তথ্য, আন্তর্জাতিক চাহিদার উপযোগী দক্ষতা এবং শোষণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেনসহ ককাসের অন্যান্য সদস্যরাও তাদের মূল্যবান মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

ককাসের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে সংসদীয় পর্যায়ে আলোচনা এবং নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও চরম ঝুঁকিতে থাকা মানুষের অধিকার, সুরক্ষা এবং জীবন-জীবিকার বিষয়টি জাতীয় নীতিনির্ধারণে প্রাধান্য পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রামরুর এই বিশেষ আয়োজনে সংসদ সদস্য, গবেষক, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজ করা নানা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

জনপ্রিয়

বাংলাদেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের ‘হাব’ গড়তে চায় ইতালি

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা এলাকা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে

প্রকাশিত ০৩:৫২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন যে শেরপুরসহ জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব থাকা অঞ্চলগুলোর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার রূপসী বাংলা হলে রামরুর ৩০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ও সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বর্তমান সরকার একযোগে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হাওর অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। নেত্রকোণা ও হাওর অঞ্চলের সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে রামরুর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী ককাস গঠনের মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং এর যৌক্তিকতা সবিস্তারে তুলে ধরেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় সংসদ সদস্যদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা ও নীতিনির্ধারণী উদ্যোগের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাও তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের সামনে উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ককাসের চেয়ারপারসন ও সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অভিবাসন ও রেমিট্যান্সের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনে পরিবারের দূরে থাকা মানুষ ও তরুণের স্বপ্নসহ নানা মানবিক গল্প লুকিয়ে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন যে দেশের অর্থনীতির মূল স্তম্ভ হলো রেমিট্যান্স, তবে অভিবাসনের মূল মানদণ্ড হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট উপার্জনকারী মানুষের প্রকৃত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নিরাপদ, ন্যায়সঙ্গত এবং সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসনকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও বেশি স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি জোরালো মতামত ব্যক্ত করেন। অভিবাসীদের জন্য সঠিক তথ্য, আন্তর্জাতিক চাহিদার উপযোগী দক্ষতা এবং শোষণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেনসহ ককাসের অন্যান্য সদস্যরাও তাদের মূল্যবান মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

ককাসের এই কার্যক্রমের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ে সংসদীয় পর্যায়ে আলোচনা এবং নীতিনির্ধারণী উদ্যোগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত ও চরম ঝুঁকিতে থাকা মানুষের অধিকার, সুরক্ষা এবং জীবন-জীবিকার বিষয়টি জাতীয় নীতিনির্ধারণে প্রাধান্য পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রামরুর এই বিশেষ আয়োজনে সংসদ সদস্য, গবেষক, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং বাস্তুচ্যুতি নিয়ে কাজ করা নানা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।