ঢাকা ০২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা থেকে বাইক ‘চুরি করে কুমিল্লা-নোয়াখালীতে সরবরাহ’, গ্রেপ্তার ৬

অপরাধ ডেস্ক: বিশেষ কায়দায় তৈরি চাবি ব্যবহার করে খুব কম সময়ে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে তা চুরি করার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। রাজধানী ঢাকা থেকে বাইকগুলো চুরি করে পরবর্তীতে সেগুলো কুমিল্লা এবং নোয়াখালী অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। গোয়েন্দা পুলিশের এই অভিযানে চোরাই চক্রের কাছ থেকে নয়টি মোটরসাইকেল এবং দুটি বিশেষ লক ভাঙার চাবি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চুরির কাজে ব্যবহার করা একটি অটোরিকশাও জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে অবস্থিত বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ এই চক্রের সদস্যরা বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাইকের লক ভেঙে তা নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গোয়েন্দা বিভাগের নজরে আসে। এরপর ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে মাঠে নামে ডিবি-লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ দল।

তদন্তের একপর্যায়ে রাজধানীর সবুজবাগের নন্দীপাড়া এবং মাদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেল নামের চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেট এলাকা থেকে রাব্বি নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে এই দুই সদস্যের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঢাকার বাইরে অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা দল। কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও সৌরভ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেখান থেকে চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, নোয়াখালীর চাটখিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাপ্পু ও মাসুম নামের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল কাজ ছিল রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে টার্গেট করা মোটরসাইকেল চুরি করা। পরে সেই চোরাই বাইকগুলো কুমিল্লার লাকসাম ও নোয়াখালীর চাটখিলের নির্দিষ্ট সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাসেলের বিরুদ্ধে ১৫টি এবং রাব্বির বিরুদ্ধে ৭টি মোটরসাইকেল চুরির মামলা রয়েছে।

এই চক্রের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ গাড়ি চুরির দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া যানবাহনগুলোর বড় একটি অংশ উদ্ধার হওয়ায় ভুক্তভোগী মালিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

৩৫০ দিনে প্রথম হার বার্সেলোনার

ঢাকা থেকে বাইক ‘চুরি করে কুমিল্লা-নোয়াখালীতে সরবরাহ’, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশিত ১২:৫২:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অপরাধ ডেস্ক: বিশেষ কায়দায় তৈরি চাবি ব্যবহার করে খুব কম সময়ে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে তা চুরি করার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। রাজধানী ঢাকা থেকে বাইকগুলো চুরি করে পরবর্তীতে সেগুলো কুমিল্লা এবং নোয়াখালী অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো। গোয়েন্দা পুলিশের এই অভিযানে চোরাই চক্রের কাছ থেকে নয়টি মোটরসাইকেল এবং দুটি বিশেষ লক ভাঙার চাবি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া চুরির কাজে ব্যবহার করা একটি অটোরিকশাও জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ২ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডে অবস্থিত বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ এই চক্রের সদস্যরা বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাইকের লক ভেঙে তা নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গোয়েন্দা বিভাগের নজরে আসে। এরপর ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে মাঠে নামে ডিবি-লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ দল।

তদন্তের একপর্যায়ে রাজধানীর সবুজবাগের নন্দীপাড়া এবং মাদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেল নামের চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেট এলাকা থেকে রাব্বি নামের আরও একজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে এই দুই সদস্যের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঢাকার বাইরে অভিযান পরিচালনা করে গোয়েন্দা দল। কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও সৌরভ নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেখান থেকে চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, নোয়াখালীর চাটখিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাপ্পু ও মাসুম নামের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের মূল কাজ ছিল রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে টার্গেট করা মোটরসাইকেল চুরি করা। পরে সেই চোরাই বাইকগুলো কুমিল্লার লাকসাম ও নোয়াখালীর চাটখিলের নির্দিষ্ট সহযোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাসেলের বিরুদ্ধে ১৫টি এবং রাব্বির বিরুদ্ধে ৭টি মোটরসাইকেল চুরির মামলা রয়েছে।

এই চক্রের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ গাড়ি চুরির দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া যানবাহনগুলোর বড় একটি অংশ উদ্ধার হওয়ায় ভুক্তভোগী মালিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।