ঢাকা ১২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ইউরোপজুড়ে চলছে বিক্ষোভ, কী চাইছেন তরুণরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন তরুণেরা। দেশভেদে নির্দিষ্ট কিছু স্থানীয় কারণ ভিন্ন হলেও সাশ্রয়ী আবাসন, উন্নত শিক্ষা, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবি প্রায় সব আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কোথাও কোথাও এসব আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও কিছু স্থানে তা সহিংস রূপ নিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ সরকারের নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ফ্রান্সে শিক্ষকসংকট, দীর্ঘ ক্লাস এবং জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের মতো সমস্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করার পর তাতে সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। স্পেনে আকাশচুম্বী বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকটের কারণে অধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন, বিশেষ করে একজন প্রবীণ নাগরিককে জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও ইইউ গড়ের দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকা বাড়ির দামের প্রতিবাদে শত শত মানুষ সমবেত হন। অন্যদিকে, ইতালির মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয় এবং আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাবের অভিযোগে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দ্রব্যমূল্য হ্রাস, পেনশন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে এসব আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ভাড়াটেদের সুরক্ষায় জরুরি আইন পাসের উদ্যোগ নিলেও পার্লামেন্টে ডানপন্থি দলগুলোর বিরোধিতার মুখে তা আটকে যায়। আলবেনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জামাতার সমর্থনপুষ্ট একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতি ও তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার অভিযোগ তুলেছে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্স সরকার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ ও কিছু ফি বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাতিলের মতো কিছু ঘোষণা দিলেও আন্দোলন সম্পূর্ণ থামেনি।

ইউরোপের এই ধারাবাহিক বিক্ষোভগুলো প্রমাণ করে যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আবাসন খাতের অনিশ্চয়তা কতটা গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সরকারগুলো কিছু ক্ষেত্রে আংশিক ছাড় বা পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান না এলে এই জনঅসন্তোষ সহজে প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। এসব সংকটের সমাধান নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলোর নীতিনির্ধারণী ও বাস্তবায়ন ক্ষমতার ওপর, যা ইউরোপের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতিও নির্ধারণ করতে পারে।

জনপ্রিয়

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স, আবেদন যেভাবে

ইউরোপজুড়ে চলছে বিক্ষোভ, কী চাইছেন তরুণরা

প্রকাশিত ১০:৩৭:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি ও আলবেনিয়াসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন তরুণেরা। দেশভেদে নির্দিষ্ট কিছু স্থানীয় কারণ ভিন্ন হলেও সাশ্রয়ী আবাসন, উন্নত শিক্ষা, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবি প্রায় সব আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কোথাও কোথাও এসব আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও কিছু স্থানে তা সহিংস রূপ নিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ সরকারের নীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ফ্রান্সে শিক্ষকসংকট, দীর্ঘ ক্লাস এবং জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষের মতো সমস্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করার পর তাতে সাধারণ মানুষ ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা যোগ দেন। স্পেনে আকাশচুম্বী বাড়িভাড়া ও আবাসন সংকটের কারণে অধিকারকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন, বিশেষ করে একজন প্রবীণ নাগরিককে জোরপূর্বক উচ্ছেদের ঘটনা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও ইইউ গড়ের দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকা বাড়ির দামের প্রতিবাদে শত শত মানুষ সমবেত হন। অন্যদিকে, ইতালির মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শুরু হওয়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয় এবং আলবেনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও কর্মসংস্থানের অভাবের অভিযোগে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দ্রব্যমূল্য হ্রাস, পেনশন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে এসব আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ভাড়াটেদের সুরক্ষায় জরুরি আইন পাসের উদ্যোগ নিলেও পার্লামেন্টে ডানপন্থি দলগুলোর বিরোধিতার মুখে তা আটকে যায়। আলবেনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জামাতার সমর্থনপুষ্ট একটি বিলাসবহুল আবাসন প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতি ও তরুণদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার অভিযোগ তুলেছে বিক্ষোভকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্স সরকার অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ ও কিছু ফি বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাতিলের মতো কিছু ঘোষণা দিলেও আন্দোলন সম্পূর্ণ থামেনি।

ইউরোপের এই ধারাবাহিক বিক্ষোভগুলো প্রমাণ করে যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আবাসন খাতের অনিশ্চয়তা কতটা গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সরকারগুলো কিছু ক্ষেত্রে আংশিক ছাড় বা পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধান না এলে এই জনঅসন্তোষ সহজে প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। এসব সংকটের সমাধান নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারগুলোর নীতিনির্ধারণী ও বাস্তবায়ন ক্ষমতার ওপর, যা ইউরোপের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতিও নির্ধারণ করতে পারে।