ঢাকা ০১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo স্বপ্নের নারীর জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি, অতঃপর… Logo বিচ্ছেদের পর নতুন রূপে শেহতাজ, দিলেন যে বার্তা Logo ‘ডুমজবিং’: অপছন্দের চাকরিতে আটকে থাকার অদৃশ্য ফাঁদ Logo আইফোন ডুও’র প্রি-অর্ডার: বাজার দখলে অ্যাপলের নতুন জুয়া Logo বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় বিনা মূল্যের অনলাইন কোর্স, আবেদন যেভাবে Logo এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেবে জাপান Logo নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক নাহরিনকে জাবি প্রশাসনের অভিনন্দন Logo নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার অধ্যাপক নাহরিনকে জাবি জিয়া পরিষদের অভিনন্দন Logo ডিওমান্ডেকে দেখে শুরুর সময়ের ভিনিসিউসকে মনে পড়ছে মরিনিয়োর Logo দর্শনীয় চার গোলের ম্যাচে জয়ের চেয়েও বড় যে প্রাপ্তি মরিনিয়োর

আইফোন ডুও’র প্রি-অর্ডার: বাজার দখলে অ্যাপলের নতুন জুয়া

প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার পর থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আগাম বিক্রির প্রথম দিনেই সরাসরি বিতরণের জন্য নির্ধারিত সব সংরক্ষিত স্টক পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইনে অর্ডার করলে গ্রাহকদের আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ফোল্ডএবল এই নতুন সংস্করণটির শুরুর দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার এবং সর্বোচ্চ সংস্করণের দাম তিন হাজার ডলারের বেশি। বহু বছর পর আইফোনের ডিজাইনে বড় ধরনের এই পরিবর্তন আসায় প্রযুক্তি বাজারে দারুণ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

অ্যাপলের এই নতুন উদ্যোগকে একটি বড় কৌশলগত জুয়া হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, ফোল্ডএবল ফোন বিশ্বজুড়ে মোট স্মার্টফোন বিক্রির সামান্য অংশ দখল করলেও রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে এর অবদান বেশ ভালো। অ্যাপলের মূল লক্ষ্য ফোল্ডএবল ফোনকে রাতারাতি গণমানুষের পণ্যে পরিণত করা নয়, বরং তাদের সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয়কারী গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যবসার পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে নেওয়া। ফোল্ডএবল অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে থাকলেও, অ্যাপল তাদের বিশাল অনুগত গ্রাহকভিত্তির কাছে এই প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে।

আইডিসির বিশ্ব গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল জানিয়েছেন, ডুও দ্রুতই সবার কাঙ্ক্ষিত একটি লাক্সারি ফোল্ডএবল ডিভাইসে পরিণত হচ্ছে। অনেক প্রযুক্তি বিশ্লেষকের ধারণার চেয়েও ডিভাইসটির দাম কিছুটা সহনীয় রাখা হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সক্রিয় আইফোন ব্যবহারকারী থাকায় প্রারম্ভিক এই গ্রাহকদের ক্ষুদ্র একটি অংশও যদি নতুন ফোনটি কেনার জন্য এগিয়ে আসে, তবে প্রাথমিক সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। উৎপাদন জটিলতা ও মান নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রথম থেকেই সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ফোনটির প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ আরও বেড়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন ফোল্ডএবল ফোন বিক্রির পরিমাণের দিক থেকে খুব বড় অংশ দখল না করলেও অ্যাপলের আয়ের পালে হাওয়া লাগাতে বড় ভূমিকা রাখবে। কারণ, ক্রেতাদের বড় একটি অংশই হলেন পুরনো আইফোন ব্যবহারকারী, যারা অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে এই প্রিমিয়াম ডিভাইসে উন্নীত হচ্ছেন। আবার অনেকে মূল আইফোনের পাশাপাশি দ্বিতীয় স্মার্টফোন হিসেবেও এটি লুফে নিচ্ছেন। এই উচ্চ গড় বিক্রয়মূল্যের ডিভাইসটি অ্যাপলের সার্বিক আয়ে দারুণ উল্লম্ফন তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডি এ ডেভিডসনের বিশ্লেষক গিল লুরি মনে করেন, শক্তিশালী আপগ্রেড চক্রের মুখে অ্যাপলের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ডুও’র সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই একটিমাত্র ডিভাইসের মাধ্যমে অ্যাপল একাধিক উপায়ে লাভবান হচ্ছে এবং কট্টর ভক্তদের আকৃষ্ট করে গড় বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতীতে যারা ফোল্ডএবল ফোনের টানে অ্যান্ড্রয়েডের দিকে ঝুঁকেছিলেন, অ্যাপল তাদের সফলভাবে নিজের দিকে ফিরিয়ে আনছে। সব মিলিয়ে, আইফোন ডুও কেবল নিজেই লাক্সারি পণ্যের বাজার দখল করছে না, বরং পরোক্ষভাবে পুরো আইফোন লাইনআপের বিক্রি বাড়াতেও সহায়তা করছে।

জনপ্রিয়

স্বপ্নের নারীর জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি, অতঃপর…

আইফোন ডুও’র প্রি-অর্ডার: বাজার দখলে অ্যাপলের নতুন জুয়া

প্রকাশিত ১২:০৭:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার পর থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আগাম বিক্রির প্রথম দিনেই সরাসরি বিতরণের জন্য নির্ধারিত সব সংরক্ষিত স্টক পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, বর্তমানে অনলাইনে অর্ডার করলে গ্রাহকদের আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ফোল্ডএবল এই নতুন সংস্করণটির শুরুর দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার এবং সর্বোচ্চ সংস্করণের দাম তিন হাজার ডলারের বেশি। বহু বছর পর আইফোনের ডিজাইনে বড় ধরনের এই পরিবর্তন আসায় প্রযুক্তি বাজারে দারুণ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

অ্যাপলের এই নতুন উদ্যোগকে একটি বড় কৌশলগত জুয়া হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, ফোল্ডএবল ফোন বিশ্বজুড়ে মোট স্মার্টফোন বিক্রির সামান্য অংশ দখল করলেও রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে এর অবদান বেশ ভালো। অ্যাপলের মূল লক্ষ্য ফোল্ডএবল ফোনকে রাতারাতি গণমানুষের পণ্যে পরিণত করা নয়, বরং তাদের সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয়কারী গ্রাহকদের কাছ থেকে ব্যবসার পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে নেওয়া। ফোল্ডএবল অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে থাকলেও, অ্যাপল তাদের বিশাল অনুগত গ্রাহকভিত্তির কাছে এই প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে।

আইডিসির বিশ্ব গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল জানিয়েছেন, ডুও দ্রুতই সবার কাঙ্ক্ষিত একটি লাক্সারি ফোল্ডএবল ডিভাইসে পরিণত হচ্ছে। অনেক প্রযুক্তি বিশ্লেষকের ধারণার চেয়েও ডিভাইসটির দাম কিছুটা সহনীয় রাখা হয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সক্রিয় আইফোন ব্যবহারকারী থাকায় প্রারম্ভিক এই গ্রাহকদের ক্ষুদ্র একটি অংশও যদি নতুন ফোনটি কেনার জন্য এগিয়ে আসে, তবে প্রাথমিক সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। উৎপাদন জটিলতা ও মান নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রথম থেকেই সরবরাহে ঘাটতি থাকায় ফোনটির প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ আরও বেড়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নতুন ফোল্ডএবল ফোন বিক্রির পরিমাণের দিক থেকে খুব বড় অংশ দখল না করলেও অ্যাপলের আয়ের পালে হাওয়া লাগাতে বড় ভূমিকা রাখবে। কারণ, ক্রেতাদের বড় একটি অংশই হলেন পুরনো আইফোন ব্যবহারকারী, যারা অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে এই প্রিমিয়াম ডিভাইসে উন্নীত হচ্ছেন। আবার অনেকে মূল আইফোনের পাশাপাশি দ্বিতীয় স্মার্টফোন হিসেবেও এটি লুফে নিচ্ছেন। এই উচ্চ গড় বিক্রয়মূল্যের ডিভাইসটি অ্যাপলের সার্বিক আয়ে দারুণ উল্লম্ফন তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডি এ ডেভিডসনের বিশ্লেষক গিল লুরি মনে করেন, শক্তিশালী আপগ্রেড চক্রের মুখে অ্যাপলের রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ডুও’র সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই একটিমাত্র ডিভাইসের মাধ্যমে অ্যাপল একাধিক উপায়ে লাভবান হচ্ছে এবং কট্টর ভক্তদের আকৃষ্ট করে গড় বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতীতে যারা ফোল্ডএবল ফোনের টানে অ্যান্ড্রয়েডের দিকে ঝুঁকেছিলেন, অ্যাপল তাদের সফলভাবে নিজের দিকে ফিরিয়ে আনছে। সব মিলিয়ে, আইফোন ডুও কেবল নিজেই লাক্সারি পণ্যের বাজার দখল করছে না, বরং পরোক্ষভাবে পুরো আইফোন লাইনআপের বিক্রি বাড়াতেও সহায়তা করছে।