রাজনীতি ডেস্ক: নানা আলোচনা ও সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব ছাড়ার এই ঘোষণা দেন। মূলত নিজের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিংবা দল যেন কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সেজন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শপথ নেওয়ার প্রায় নয় মাসের মাথায় তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ালেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি গেন্ডারিয়া এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে। গত শনিবার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেললাইনের পাশের একটি মাঠে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেন ইশরাক ও তার সহযোগীরা। ওই সময় হাতে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রসহ তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে ইশরাকের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, নিরাপত্তাঝুঁকি ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা থেকেই তিনি আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন পদত্যাগী এই প্রতিমন্ত্রী। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সেদিন তিনি কোনো চাঁদাবাজি করতে যাননি, বরং মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, অস্ত্র হাতে ছবি প্রকাশের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি নিজেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে তার লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। মাদক নির্মূলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমতি চেয়েছেন এবং সেই সুযোগ পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। নিজের কারণে সরকারের কর্মকাণ্ড যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই তিনি এই পদত্যাগের পথ বেছে নেন।
































