রাজনীতি ডেস্ক: অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। এর আগে গত ১ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরে একটি কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়িয়ে সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিও সংসদ সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন। সরকার গঠনের অল্প সময়ের ব্যবধানে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই নেতার এমন পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ধরনের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিএনপি দল ও সরকারের ভেতর কড়া বার্তা দিতে চাইছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি নিজের এলাকায় দলবল নিয়ে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইশরাক হোসেন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে জানান যে, তার কর্মকাণ্ডের কারণে যেন সরকার বা দল কোনো ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাজ আড়ালে চলে না যায়, সে জন্যই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে অনুরূপভাবে দলীয় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে দখলের চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর তাকেও সরে দাঁড়াতে হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলেও মন্ত্রিত্ব হারানোর এমন নজির থাকলেও বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপিপ্রধান যে কোনো ধরনের অনৈতিক বা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বরদাশত করবেন না, সেটিই স্পষ্ট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায় থেকে শুরু করে দলের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি সতর্কবার্তা পৌঁছে যাচ্ছে।
গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মনে করেন, মাদকের বিরুদ্ধে যাওয়ার কারণে নয়, বরং অস্ত্র হাতে নিয়ে দায়িত্বহীন আচরণ প্রদর্শনের জন্যই ইশরাককে পদ হারাতে হয়েছে। এর মাধ্যমে দলের অন্য মন্ত্রীদেরও আরও দায়িত্বশীল আচরণ করার শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে গবেষক আলতাফ পারভেজ এটিকে অপেক্ষাকৃত লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড হিসেবে দেখলেও, এর ফলে দলের ভেতরে এক ধরনের লাগাম ও সতর্কতা তৈরি হবে বলে মনে করেন।
সব মিলিয়ে, ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই কঠোর সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে নেতাকর্মীদের যেকোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন পর্যালোচকরা। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগের ফলে সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে এবং কর্মীরা আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সরকারের সামগ্রিক পরিচালনায় অন্য যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কেবল শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সেগুলোর পুরোপুরি সমাধান হবে না বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।




































