ফিচার ডেস্ক: অফিসের সময় শেষ হওয়ার আগেই ফোন বন্ধ করে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে জামালপুরের বাসে উঠে পড়েন এক ব্যক্তি। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দুটি দিনে অফিস ফেলে তার এভাবে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া নিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তা ও স্ত্রীর মনে নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়াশাঘেরা হেমন্তের বিকেলে ফাঁকা ধানখেত পেরিয়ে বাস যখন গন্তব্যের দিকে ছোটে, তখন তার মনে পড়তে থাকে সেই কারিগরের কথা। মিষ্টি বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত হলেও খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি আসলে একজন কাঠমিস্ত্রি এবং সপ্তাহে মাত্র দুই দিন হাটে সন্দেশ বিক্রি করেন।
কারিগরের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা হয় সেই ব্যক্তির। কাঠের কাজ করলেও কেন তিনি সন্দেশ বিক্রি করেন এবং তার তৈরি সন্দেশের কেন এত চাহিদা—এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে মাথায়। তবে কারিগর খুব সংক্ষেপে জানান যে তিনি শুধু সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার হামিদপুর হাটে সন্দেশ বিক্রি করেন এবং কাউকে একটির বেশি সন্দেশ দেন না। কথা বলার সময় তার আচরণ ও গলায় ঝুলে থাকা মাফলার কিংবা আংটি বদলানোর ভঙ্গি থেকে একধরনের অস্থিরতা ও রাখঢাক করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
কথপোককথনের মাঝেই বাড়ির পেছন দিক থেকে এক ভীতিজাগানিয়া ধাতব শব্দ ভেসে আসে, যা শুনে সুন্দরবনের এক পুরোনো রাতের কথা মনে পড়ে যায় সেই ব্যক্তির। কারিগর জানান এটি ‘আতস পাখি’ বা রাতচরার ডাক, যা পরিবেশটিকে আরও রহস্যময় করে তোলে। সেখানে দীর্ঘসময় থাকার সুযোগ না থাকায় এবং কারিগরের কাছ থেকে এর বেশি তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় তিনি ঢাকায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। বিদায় নেওয়ার সময় কারিগর তাকে বাস ধরার সহজ পথ বাতলে দেন এবং ভেতরে থাকার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা এড়িয়ে আসেন।
কারিগরের কথায় কোনো বুজরুকি না থাকলেও সন্দেশ বিক্রির পেছনে অন্য কোনো গভীর উদ্দেশ্য রয়েছে বলে সন্দেহ করেন সেই ব্যক্তি। পরবর্তী সময়ে হামিদপুর হাটে গিয়ে মসলার গন্ধঘেরা পরিবেশে জিলাপির দোকানের পাশে ঠিকই সেই পরিচিত মানুষটিকে খুঁজে পান তিনি। পুরোনো এক টিনের কৌটায় রাখা সেই সন্দেশের মধ্যে কোনো অলৌকিক কিছু লুকিয়ে আছে কি না, সেই ভাবনা নিয়েই শেষ হয় তার এই রহস্যঘেরা অভিযাত্রা।







































