সারাদেশ ডেস্ক: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের কাজিকান্দা খালে ইজারার শর্ত লঙ্ঘন করে কৃত্রিম বাঁধ দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। অথচ উপজেলা ভূমি অফিসের ইজারা দলিলের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই খালে কোনো ধরনের বাঁধ নির্মাণ করা যাবে না। কিন্তু নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল ইজারার দোহাই দিয়ে এলাকায় মাইকিং করেছে এবং খালের ভেতর থেকে ট্রলার সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই ঘটনায় ওই খাল দিয়ে যাতায়াতকারী অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি মাছ ধরার ট্রলারের শতাধিক জেলে চরম অনিশ্চয়তা ও বিপাকে পড়েছেন।
উপজেলা ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিচকাটা খালের পার্শ্ববর্তী কাজিকান্দা মৌজার এই ছয় একর খাস খালটি বেড়িবাঁধের বাইরের অংশে অবস্থিত। চলতি বছরের চব্বিশ জুন মৌডুবী ইউনিয়নের বাহির হাওলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. শামিম ফরাজিকে খালটি খাস আদায়ের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। ইজারা চুক্তির শর্তে উল্লেখ ছিল যে, জলমহালটির স্বাভাবিক নিষ্কাশন ও জনসাধারণের চলাচল বা পাবলিক ইজমেন্ট কোনোভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। এছাড়াও জনসাধারণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে এই ইজারা আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।
স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, খালটিতে বাঁধ নির্মাণ করা হলে তাদের ট্রলারগুলো ভেতরে আটকা পড়ে যাবে এবং সাগরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। শুধু জেলেরা নন, শুষ্ক মৌসুমে কাজিকান্দা এলাকার প্রায় একশ পরিবার এই খালের পানির ওপর নির্ভরশীল থাকায় তারাও মারাত্মক পানির সংকটে পড়বেন। ইজারাদারের পক্ষের লোকজন মাইকিং করে আগামী বিশ অক্টোবর দুই হাজার ছাব্বিশ তারিখের মধ্যে খালের ভেতর থেকে সকল বোট সরিয়ে নিতে বললেও স্থানীয়রা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এই অনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে মৌডুবী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক জানান যে, তিনি পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করেছেন। জনগণের চলাচলের এই গুরুত্বপূর্ণ খালের স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষায় কোনোভাবেই বাঁধ দিতে দেওয়া হবে না বলে তিনি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে জানান যে, কোনো অবস্থাতেই খালে বাঁধ দেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কোনো পক্ষ ইজারার শর্ত ভেঙে কৃত্রিম বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা চালায়, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





































