ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে: জরিপ Logo জাতীয় লিগে কেন ৭০ ওভার পরই নেওয়া যাচ্ছে নতুন বল Logo পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজের কাজ শিগগিরই শুরু: প্রধানমন্ত্রী Logo অভাবের সংসার নিয়ে মোস্তফার প্রশ্ন, ‘আর পারা যাচ্ছে না’ Logo খাস খালে বাঁধ দেয়ার পাঁয়তারা, ট্রলার সরিয়ে নিতে মাইকিং Logo বাণিজ্য মেলার প্রথম দিনেই দুই মোটরসাইকেল চুরি, বিকাশে টাকা দাবি Logo ইতালিতে সংঘর্ষ-লুটপাট, সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি Logo গুরুতর আহত শিক্ষার্থীকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠাল রাবি প্রশাসন Logo ‘যে ভোট দেয়নি তার জন্যও সরকার হতে চাই’ Logo সিকিউরিটি ক্যামেরায় কেন লেজার তাক করা উচিত নয়?

অভাবের সংসার নিয়ে মোস্তফার প্রশ্ন, ‘আর পারা যাচ্ছে না’

সারাদেশ ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সাইকেলে করে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পত্রিকা পৌঁছে দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন মোস্তফা মাদবর। প্রতিদিন অন্যের সুখ-দুঃখ ও সংকটের খবর বিক্রি করলেও তাঁর নিজের জীবনটাই এখন চরম সংকটে জর্জরিত। সময়ের পরিবর্তনে প্রিন্ট মিডিয়ার চাহিদা কমার কারণে তাঁর জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। জীবিকার চাকা সচল রাখতে গিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

একসময়ের জনপ্রিয় এই পেশায় মোস্তফা দিনে প্রায় ১ হাজার ২০০ কপি পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকা বিক্রি করতেন। কিন্তু প্রযুক্তির ছোঁয়া ও যুগের পরিবর্তনে সেই সংখ্যা কমে বর্তমানে মাত্র প্রায় ২৩০ কপিতে এসে ঠেকেছে। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে একটি ঝুপড়ি ঘরে ভাড়া থাকেন এই পরিশ্রমী মানুষটি। সেখানে মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা ঘরভাড়া পরিশোধ করার পর বাকি আয় দিয়ে সংসার চালানো তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক বৃদ্ধ মা নিয়ে মোস্তফার পাঁচ সদস্যের সংসার রয়েছে। সীমিত আয়ের এই মানুষটিকে সন্তানদের পড়াশোনা, ঘরভাড়া, নিজের ও মায়ের ওষুধ কেনার খরচ মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসারের হিসাব মেলাতে গিয়ে তাঁকে নিয়মিত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উৎসবের দিনেও পরিবার নিয়ে ভালো খাবার খাওয়া বা নতুন পোশাক কেনা তাঁর ভাগ্যে আর জোটে না।

দুই ছেলে আলামিন ও ইয়াছিনের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের চিকিৎসাসেবা নিয়ে তিনি সবসময় গভীর দুশ্চিন্তায় থাকেন। বয়স বাড়লেও তাঁর কাঁধ থেকে দায়িত্বের বোঝা কমার পরিবর্তে দিন দিন বেড়েই চলেছে। আয়ের পথ সংকুচিত হওয়ায় কীভাবে বাকি জীবন পার করবেন, তা ভেবে তিনি কূল কিনারা পাচ্ছেন না। নিজের চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন যে এখন আর জীবিকার লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মোস্তফার এই জীবন সংগ্রাম কেবল একজন সাধারণ পত্রিকা বিক্রেতার ব্যক্তিগত গল্প নয়, এটি নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বহু বছর ধরে সমাজকে তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করলেও তাঁর নিজের জীবনের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রয়ে গেছে। থেমে থাকার কোনো সুযোগ না থাকায় তাঁকে প্রতিদিনের মতো সকালেও জীবিকার অন্বেষণে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হয়।

জনপ্রিয়

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন রেকর্ড পরিমাণ কমেছে: জরিপ

অভাবের সংসার নিয়ে মোস্তফার প্রশ্ন, ‘আর পারা যাচ্ছে না’

প্রকাশিত ০৫:৫২:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সারাদেশ ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সাইকেলে করে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে পত্রিকা পৌঁছে দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন মোস্তফা মাদবর। প্রতিদিন অন্যের সুখ-দুঃখ ও সংকটের খবর বিক্রি করলেও তাঁর নিজের জীবনটাই এখন চরম সংকটে জর্জরিত। সময়ের পরিবর্তনে প্রিন্ট মিডিয়ার চাহিদা কমার কারণে তাঁর জীবনযাত্রায় নেমে এসেছে গভীর অন্ধকার। জীবিকার চাকা সচল রাখতে গিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন।

একসময়ের জনপ্রিয় এই পেশায় মোস্তফা দিনে প্রায় ১ হাজার ২০০ কপি পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রিকা বিক্রি করতেন। কিন্তু প্রযুক্তির ছোঁয়া ও যুগের পরিবর্তনে সেই সংখ্যা কমে বর্তমানে মাত্র প্রায় ২৩০ কপিতে এসে ঠেকেছে। মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামে একটি ঝুপড়ি ঘরে ভাড়া থাকেন এই পরিশ্রমী মানুষটি। সেখানে মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা ঘরভাড়া পরিশোধ করার পর বাকি আয় দিয়ে সংসার চালানো তাঁর জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক বৃদ্ধ মা নিয়ে মোস্তফার পাঁচ সদস্যের সংসার রয়েছে। সীমিত আয়ের এই মানুষটিকে সন্তানদের পড়াশোনা, ঘরভাড়া, নিজের ও মায়ের ওষুধ কেনার খরচ মেটাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসারের হিসাব মেলাতে গিয়ে তাঁকে নিয়মিত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। উৎসবের দিনেও পরিবার নিয়ে ভালো খাবার খাওয়া বা নতুন পোশাক কেনা তাঁর ভাগ্যে আর জোটে না।

দুই ছেলে আলামিন ও ইয়াছিনের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের বয়োবৃদ্ধ সদস্যের চিকিৎসাসেবা নিয়ে তিনি সবসময় গভীর দুশ্চিন্তায় থাকেন। বয়স বাড়লেও তাঁর কাঁধ থেকে দায়িত্বের বোঝা কমার পরিবর্তে দিন দিন বেড়েই চলেছে। আয়ের পথ সংকুচিত হওয়ায় কীভাবে বাকি জীবন পার করবেন, তা ভেবে তিনি কূল কিনারা পাচ্ছেন না। নিজের চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন যে এখন আর জীবিকার লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মোস্তফার এই জীবন সংগ্রাম কেবল একজন সাধারণ পত্রিকা বিক্রেতার ব্যক্তিগত গল্প নয়, এটি নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। বহু বছর ধরে সমাজকে তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করলেও তাঁর নিজের জীবনের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন রয়ে গেছে। থেমে থাকার কোনো সুযোগ না থাকায় তাঁকে প্রতিদিনের মতো সকালেও জীবিকার অন্বেষণে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হয়।