ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

থানায় রুমিন ফারহানা-ওসির তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

রাজনীতি ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সরাইল থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছেন। ২২ অক্টোবর রাতে সরাইল থানার ওসির কক্ষে এই ঘটনা ঘটে এবং এ সময় দুজনই পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগ নিয়ে এমপি থানায় যান। রাত আটটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ওসির কক্ষে অবস্থানকালে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটে। থানায় উপস্থিত থাকা রুমিন ফারহানার সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ত্রিশ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে ওসি সেই অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনার কথা বলেন।

কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ করে তার অতীতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মন্তব্য করেন। জবাবে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া দাবি করেন যে, এমপি সাহেব কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন এবং তাদের ধরতে নিষেধ করেন। এ সময় রাজ্জি নামের এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ উঠলে রুমিন ফারহানা জানান যে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত একজন ব্যক্তি। ঘটনার বিষয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন যে সংসদ সদস্য শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। তিনি আরও বলেন যে পূজায় পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে আলাদা পুলিশ টিম রাখা কঠিন ছিল।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেন যে ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা ও ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে সরাইল একটি দাঙ্গা প্রবণ এলাকা এবং দাঙ্গা থামার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ করা যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এই ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় এমন ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জনপ্রিয়

সহজেই তৈরি করুন আনারসের চাটনি

থানায় রুমিন ফারহানা-ওসির তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশিত ১০:০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজনীতি ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সরাইল থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়েছেন। ২২ অক্টোবর রাতে সরাইল থানার ওসির কক্ষে এই ঘটনা ঘটে এবং এ সময় দুজনই পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। সদ্য সমাপ্ত দুর্গাপূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগ নিয়ে এমপি থানায় যান। রাত আটটা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা ওসির কক্ষে অবস্থানকালে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটে। থানায় উপস্থিত থাকা রুমিন ফারহানার সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি ওসির বিরুদ্ধে ত্রিশ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে ওসি সেই অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে থানায় আনার কথা বলেন।

কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসিকে উদ্দেশ করে তার অতীতের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মন্তব্য করেন। জবাবে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া দাবি করেন যে, এমপি সাহেব কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজনকে সবসময় শেল্টার দেন এবং তাদের ধরতে নিষেধ করেন। এ সময় রাজ্জি নামের এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ উঠলে রুমিন ফারহানা জানান যে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত একজন ব্যক্তি। ঘটনার বিষয়ে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন যে সংসদ সদস্য শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। তিনি আরও বলেন যে পূজায় পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে আলাদা পুলিশ টিম রাখা কঠিন ছিল।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেন যে ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা ও ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন যে সরাইল একটি দাঙ্গা প্রবণ এলাকা এবং দাঙ্গা থামার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণ করা যায় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এই ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পুলিশ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ থানায় এমন ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।