অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যেই এই বাণিজ্যিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট পাঁচ কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে। এই চালানে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট গ্যাসের দাম জাপান-কোরিয়া মার্কার বাজারদরের তুলনায় শূন্য দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার কম রাখা হয়েছে। এছাড়া পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এই প্রতিষ্ঠানটির নিকট থেকে প্রয়োজনে আরও অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি কেনার বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, সরকার-টু-সরকার বা জিটুজি কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন মিলেছে। আগামী বিশ ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য নির্ধারিত এই এক কার্গো গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউর মূল্য জেকেএম বাজারদরের চেয়ে শূন্য দশমিক ১০ মার্কিন ডলার কম পড়বে। সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালার যথাযথ বিধান অনুসরণ করেই এই পদ্ধতিগুলো বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পৃথক বৈঠকে জাপানের জেরা গ্লোবাল মার্কেটস প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকেও এলএনজি আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলা এবং সংশ্লিষ্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বিক্রয় ও ক্রয় চুক্তির শর্তে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই বহুমুখী আমদানির মাধ্যমে দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




































