লাইফস্টাইল ডেস্ক: ত্বকের যত্নে প্রথাগত প্রসাধন সামগ্রীর ব্যবহার ছাড়াও আধুনিক বিউটি ইন্ডাস্ট্রি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন ধারার সূচনা হয়েছে। রূপচর্চার এই নতুন কৌশলের নাম ‘নিউট্রি-কসমেটিকস’, যা মূলত খাওয়ার উপযোগী প্রসাধন বা বিউটি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে পরিচিত। প্রলেপ দিয়ে ত্বকের উপরিভাগ সাজানোর বদলে শরীরকে ভেতর থেকে পুষ্ট করে ত্বক সুন্দর রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। চর্মরোগ বিজ্ঞানীদের মতে, ত্বকের সৌন্দর্য মূলত নির্ভর করে প্রতিদিনের খাবার এবং পুষ্টির ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাহ্যিক ক্রিম বা সেরাম ত্বকের সামান্য অংশকে প্রভাবিত করতে পারে, আর বাকি বড় অংশ নির্ভর করে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সাপ্লিমেন্টের ওপর। এই ধারার অন্যতম প্রধান উপাদান হলো ‘হাইড্রোলাইজড কোলাজেন’, যা ত্বকের টানটান ভাব ও গঠন বজায় রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন তৈরির মাত্রা কমতে থাকে। ফলস্বরূপ ত্বকে বলিরেখা ও বার্ধক্যের ছাপ পড়তে শুরু করে, যার ঘাটতি পূরণ করতে ওরাল কোলাজেন পেপটাইডের ব্যবহার বাড়ছে।
সাম্প্রতিক ক্লিনিকাল ট্রায়াল ও মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা গেছে, নিয়মিত ওরাল কোলাজেন গ্রহণ করলে অল্প সময়েই ত্বকের শুষ্কতা দূর হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট কয়েক সপ্তাহ সেবন করলে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিরক্ষামূলক স্তর শক্তিশালী হয়। তবে বিজ্ঞাপনে অতি দ্রুত বলিরেখা দূর করার যে দাবি করা হয়, তার শতভাগ নিখুঁত প্রমাণ এখনও মেলেনি এবং এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
কোলাজেন ছাড়াও ইনসাইড-আউট বিউটি রুটিনে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কোএনজাইম কিউ১০, বায়োটিন ও জিঙ্কের মতো উপাদান অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি হজম প্রক্রিয়া বা ‘গাট-স্কিন অ্যাক্সিস’ ভালো রাখতে সাপ্লিমেন্টে প্রোবায়োটিকসও যুক্ত করা হচ্ছে। তবে যেকোনো বিউটি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পূর্বে তার গুণগত মান ও ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
কৃত্রিম উপাদানের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পানি, ভিটামিন সি যুক্ত ফল, শাকসবজি, ডিম ও সামুদ্রিক মাছ রাখা প্রয়োজন। এসব খাবার শরীরের প্রাকৃতিক কোলাজেন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক পুষ্টি এবং জীবনযাত্রার মাধ্যমেই কেবল দীর্ঘস্থায়ী লাবণ্য ও সুস্থ ত্বক অর্জন করা সম্ভব।





































