সাহিত্য ডেস্ক: কলকাতা থেকে প্রকাশিত ছোট পত্রিকার মাধ্যমে লেখক প্রথম কালীকৃষ্ণ গুহের কবিতার সঙ্গে পরিচিত হন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর বেশ কিছু কাব্যগ্রন্থ ও গদ্য সংগ্রহ করেন। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণমূলক গদ্যে এই কবি নিজের জীবন ও কলকাতা যাত্রার পেছনের টানাপোড়েন সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেছেন। শৈশব ও পরিবারের স্মৃতি এবং চেনাজানা পরিমণ্ডল ছেড়ে তাঁর এই অজানা শহরে পাড়ি জমানোর মধ্য দিয়েই মূলত তাঁর কাব্যিক পথচলার সূচনা ঘটেছিল।
কালীকৃষ্ণ গুহর কবিতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের আনন্দ-বেদনা, হতাশা ও ব্যর্থতার গল্প ফুটিয়ে তোলে। তাঁর কবিতায় কোনো জড়তা বা জোর-জবরদস্তি না থাকলেও এর মধ্যে এক ধরনের শিল্পিত রহস্য ও গভীর অন্তর্দীপ্তি বিদ্যমান। সম্পাদক অরুণাভ সরকার উল্লেখ করেছেন যে, এই কবির দীর্ঘ কাব্যযাত্রার মূল বৈশিষ্ট্য হলো প্রশান্তি, যেখানে অত্যন্ত যন্ত্রণাকাতর অভিজ্ঞতাও শান্ত ও নিরাসক্তভাবে প্রকাশিত হয়।
মননশীল ব্যক্তিত্ব শিবনারায়ণ রায় এই কবিকে একজন সুবেদী ও গভীরের সন্ধানী হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। কালীকৃষ্ণ গুহ নিজে সর্বদা নিজের অনুভূত চিন্তা ও উপলব্ধির প্রতি সত্য থাকার চেষ্টা করেছেন এবং সমকাল থেকেই কবিতার ভাষা খুঁজে নিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রত্যেক বড় কবিই যুগের অগ্রগতিতে কোনো না কোনোভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন।
‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ গ্রন্থের ভূমিকায় কালীকৃষ্ণ গুহ আধুনিকতা নিয়ে নিজেদের শুরুর দিকের গোপন ভয়ের কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আধুনিকতা কোনো খণ্ডিত বিষয় নয়, বরং এটি সাহিত্যিক পরম্পরা, ইতিহাস এবং বিশ্বকবিতার উত্তরাধিকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশীয় ঐতিহ্য থেকে বিশ্বপরিমণ্ডল পর্যন্ত এই চেতনাকে টেনে নেওয়ার মাঝেই একজন আধুনিক কবি হিসেবে তাঁর স্বাতন্ত্র্য লুকিয়ে রয়েছে।





































