ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পূর্বাচল ক্লাব নিয়ে হচ্ছেটা কী?

জাতীয় ডেস্ক: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনে পরিবর্তন আসলেও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অভিজাত পূর্বাচল ক্লাব এখন নতুন আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে ক্লাব পরিচালনার জন্য ১০ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) পাঠানো ওই চিঠিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। তবে এই চিঠি পাওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিবের সই করা ওই চিঠিতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ক্লাব পরিচালনা ও নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আবদুল্লাহ বিন শফিককে। এছাড়া কমিটিতে উপদেষ্টা ও সদস্য হিসেবে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য, সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ক্লাবের বেশ কয়েকজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন কমিটি দায়িত্ব বুঝে নিয়ে আগামী ১৪ নভেম্বর একটি বিশেষ সাধারণ সভা বা ইজিএম ডেকেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই চিঠির আইনগত বৈধতা ও এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চব্বিশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া শওকত আজিজ রাসেল। ক্লাব সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ফেসবুক বিবৃতিতে তিনি জানান, শহরের বাইরে থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনগত পরামর্শ গ্রহণ করছেন এবং প্রাপ্ত চিঠির আইনি অবস্থান পর্যালোচনার দায়িত্ব নির্বাহী কমিটির ওপর বর্তায়। অন্যদিকে, আরজেএসসির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে এই ধরনের চিঠি সাধারণত তাদের দপ্তরে আসে না এবং নিবন্ধক বা অতিরিক্ত নিবন্ধক বিষয়টি তাদের চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন।

চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনো আবেদনকারীর নাম উল্লেখ না থাকায় এবং কার নির্দেশক্রমে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে তা স্পষ্ট না থাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে কমিটির উপদেষ্টা ফজলুল হক মিলন ও সদস্য সচিব আবদুল্লাহ বিন শফিক নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছেন। অতীতে ক্লাবটির নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন পদে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরাই এখন এই অ্যাডহক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

অভিজাত এই সামাজিক ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এমন নির্দেশনা আসার বিষয়টি ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আরজেএসসির এখتهاর এবং বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি ক্লাবটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আইনি পর্যালোচনা ও পারস্পরিক মতবিরোধের কারণে পূর্বাচল ক্লাবের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয়

খাগড়াছড়িতে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনে সেনাপ্রধান

পূর্বাচল ক্লাব নিয়ে হচ্ছেটা কী?

প্রকাশিত ১০:৫২:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনে পরিবর্তন আসলেও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের অভিজাত পূর্বাচল ক্লাব এখন নতুন আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি চিঠির মাধ্যমে ক্লাব পরিচালনার জন্য ১০ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) পাঠানো ওই চিঠিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। তবে এই চিঠি পাওয়ার পর থেকেই ক্লাবটির পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের একান্ত সচিবের সই করা ওই চিঠিতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ক্লাব পরিচালনা ও নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। নবগঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে রূপগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম আবদুল্লাহ বিন শফিককে। এছাড়া কমিটিতে উপদেষ্টা ও সদস্য হিসেবে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য, সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ক্লাবের বেশ কয়েকজন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে নতুন কমিটি দায়িত্ব বুঝে নিয়ে আগামী ১৪ নভেম্বর একটি বিশেষ সাধারণ সভা বা ইজিএম ডেকেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই চিঠির আইনগত বৈধতা ও এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চব্বিশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়া শওকত আজিজ রাসেল। ক্লাব সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ফেসবুক বিবৃতিতে তিনি জানান, শহরের বাইরে থাকায় তিনি বিষয়টি নিয়ে আইনগত পরামর্শ গ্রহণ করছেন এবং প্রাপ্ত চিঠির আইনি অবস্থান পর্যালোচনার দায়িত্ব নির্বাহী কমিটির ওপর বর্তায়। অন্যদিকে, আরজেএসসির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন যে এই ধরনের চিঠি সাধারণত তাদের দপ্তরে আসে না এবং নিবন্ধক বা অতিরিক্ত নিবন্ধক বিষয়টি তাদের চোখে পড়েনি বলে জানিয়েছেন।

চিঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনো আবেদনকারীর নাম উল্লেখ না থাকায় এবং কার নির্দেশক্রমে এই অনুরোধ জানানো হয়েছে তা স্পষ্ট না থাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে কমিটির উপদেষ্টা ফজলুল হক মিলন ও সদস্য সচিব আবদুল্লাহ বিন শফিক নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছেন। অতীতে ক্লাবটির নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন পদে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরাই এখন এই অ্যাডহক কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন।

অভিজাত এই সামাজিক ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এমন নির্দেশনা আসার বিষয়টি ক্রীড়া ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আরজেএসসির এখتهاর এবং বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি ক্লাবটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আইনি পর্যালোচনা ও পারস্পরিক মতবিরোধের কারণে পূর্বাচল ক্লাবের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।