অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মিলনায়তনে আয়োজিত বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনের শেষ দিনের অধিবেশনে তিনি এই শঙ্কার কথা জানান। তার মতে, দেশের অর্থনীতি কেবল লাইনচ্যুতই হয়নি, বরং তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ব্যাংকিং খাতের এই দুরবস্থা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সামগ্রিক কাঠামোগত সংকটের একটি উপসর্গ। রাষ্ট্র নিজেই একটি বিশেষ শ্রেণির জন্ম দিয়েছে উল্লেখ করে মাহবুব উল্লাহ জানান, ব্যাংকগুলোর মনোযোগ বেসরকারি খাত থেকে সরে যাওয়ায় ঋণবঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ ব্যবসা। এর ফলে সরকারের ঘাড়ে বিশাল ঋণের বোঝা জমা হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে এক ধরনের বিপরীতমুখী চাপ বিরাজ করছে। একদিকে কিছু দুর্বল ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তীব্র তারল্যসংকটে ভুগছে, অন্যদিকে সামগ্রিক খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল সুশাসনের কারণে খেলাপি ঋণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সম্মেলনে জানানো হয়।
বিআইবিএমের মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম জানান, বিগত জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খেলাপি ঋণে রূপ নিয়েছে। সুশাসনের ঘাটতি, অর্থ পাচার এবং মূলধনের অপ্রতুলতা এই খাতকে দুর্বল করে তুলছে। তাই খাতের ওপর জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এবং কার্যকর বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর বক্তারা জোর দেন।





































