শিক্ষা ডেস্ক: নটর ডেম কলেজে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ শিক্ষাবর্ষে পড়ার সময় গণিত পরীক্ষায় বড় একটি অংশ ফেল করার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ বা গাধা উন্নয়ন প্রকল্প চালু করেছিল। নিয়মিত ক্লাস শেষে পিছিয়ে পড়া ছাত্রদের নিয়ে এই অতিরিক্ত গণিত ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গণিতের শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার ভদ্র রসবোধের সাথে ছাত্রদের এই বিশেষ ক্লাসে পড়াতেন এবং তাদের মূলবিন্দুগামী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। কলেজটি ফেল করা ছাত্রদের কেবল ব্যক্তিগত অযোগ্যতা ধরে নিয়ে বসে থাকেনি, বরং তাদের উৎরে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আধুনিক শিক্ষা ভাবনায় এই নামটি আপত্তিকর শোনালেও এর পেছনে পিছিয়ে পড়া ছাত্রের দায়িত্ব নেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত স্পষ্ট ছিল।
সম্প্রতি প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে নটর ডেম কলেজ বরাবরের মতো অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩ হাজার ২৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ২১৮ জন পাস করেছে এবং পাসের হার ৯৮.৮৩ শতাংশ। কেবল ভালো ছাত্র ভর্তি করানোই নয়, বরং দুই বছর পর তাদের আরও ভালো ফলাফলে পৌঁছে দেওয়া বড় বিষয়। তবে শুধু জিপিএ-৫ বা পাসের হার দিয়ে একটি ভালো কলেজের প্রকৃত সার্থকতা পুরোপুরি মাপা যায় না। ভর্তির সময় একজন শিক্ষার্থী যেখানে ছিল, দুই বছর পর সে সেখান থেকে কতটা পথ এগোল সেটাই আসল বিষয়।
ভালো মানের শিক্ষার্থী বা সমান সুযোগ-সুবিধা সব প্রতিষ্ঠানের থাকে না, কিন্তু পাঠদানের দায়বদ্ধতা ও অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া অসম্ভব নয়। নটর ডেম কলেজের বিশেষত্বের পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান, বিতর্ক, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, দাবা ও সাহিত্যসহ অজস্র সক্রিয় সহশিক্ষা কার্যক্রম। এসব ক্লাবের নিয়মিত চর্চা, মাঠপর্যায়ের কাজ ও দলগত দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা বেড়ে ওঠে। এই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ও ইতিবাচক চাপ ছাত্রদের পড়ালেখাকে গুরুত্ব দিতে এবং নিজেদের নানা দক্ষতা চিনতে সাহায্য করে। প্রতিষ্ঠানের প্রতি গর্ব আত্মতুষ্টি তৈরি করতে পারলেও এর কার্যকর পদ্ধতিগুলো বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
পরীক্ষায় খুব ভালো ফলাফল না করলেও একজন শিক্ষার্থী অনুসন্ধিৎসু, দায়িত্বশীল ও আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ হয়ে বের হতে পারলে সেটাই প্রতিষ্ঠানের বড় অর্জন। ছাত্রের দুর্বলতা থাকলে তাকে অতিরিক্ত শিখিয়ে এগিয়ে নেওয়ার সহজ সত্যটিই একটি ভালো কলেজকে ফুটিয়ে তোলে। ভালো কলেজের আসল পরিচয় শুধু তার সেরা শিক্ষার্থীদের সাফল্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তারা কীভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সামলে নেয় সেটাই মূল বিষয়।





































