প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে চললেও, জটিল ওয়েবসাইট ব্রাউজিং ও ফোন কলের মতো সূক্ষ্ম বিচার-বুদ্ধির কাজে এআই এজেন্টের ত্রুটি কাটাতে এখনও মানবকর্মীদের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। মেটা বা ওপেনএআইয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নত ফাউন্ডেশন মডেল দিয়ে পরিচালিত হলেও, এসব এআই এজেন্ট ইন্টারনেটের নানা মাধ্যমে এবং বিশেষ করে ফোন কলের ক্ষেত্রে এখনও পুরোপুরি নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারছে না। ফলে ব্যবহারকারীর হয়ে গ্রাহকসেবা প্রতিনিধির সঙ্গে দরদাম করার মতো কাজগুলোতে সফটওয়্যারের পাশাপাশি নেপথ্যে মানুষকেই যুক্ত করা হচ্ছে।
এআই স্টার্টআপ ড্যাজেল এআই-এর প্রধান নির্বাহী মারিসা মেয়ার জানিয়েছেন, আধুনিক মডেলগুলো বিভিন্ন সেবার প্রাথমিক খোঁজ দিতে পারলেও বুকিং বা সময় নির্ধারণের চূড়ান্ত ধাপে গিয়ে ভুল করে বসে। উদাহরণস্বরূপ, একটি এআই এজেন্ট জানালার কাঁচ ও টেবিলটপের কাঁচকে গুলিয়ে ফেলে অযৌক্তিক উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করেছিল, যা পরবর্তীতে একজন মানবকর্মী মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সমাধান করেন। একইভাবে ডাকবিল ও ওয়াজো এআই-এর মতো স্টার্টআপগুলোও ফোন কল করা বা ক্যাপচা পরীক্ষা পার হওয়ার মতো জটিল ধাপে চুক্তিভিত্তিক মানবকর্মীদের সাহায্য নিচ্ছে।
ডাকবিলের প্রধান নির্বাহী মেগান জয়েস উল্লেখ করেছেন যে, বাস্তবজগতের সূক্ষ্ম বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে এমন কাজে মানুষের বিকল্প নেই। তাই তাদের প্রতিষ্ঠান একটি এপিআই চালু করেছে, যার মাধ্যমে এআই এজেন্ট নির্মাতা কোম্পানিগুলো চুক্তিভিত্তিক মানবকর্মীদের সঙ্গে তাদের সিস্টেম যুক্ত করতে পারে। উবারের মডেলের মতো এই পদ্ধতিতে জটিল কাজগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে মানুষের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা হয়।
তবে নেপথ্যে মানুষের এই উপস্থিতি নিয়ে প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা সংক্রান্ত কিছু উদ্বেগও রয়েছে, যা মেটার অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অতীতে দেখা গিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপগুলো জানিয়েছে, তারা কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও গোপনীয়তা রক্ষার গুণাবলি দেখেই কর্মী নিয়োগ করে থাকে। এআই প্রযুক্তি পুরোপুরি মানুষের সমকক্ষ হয়ে ওঠা পর্যন্ত এই রূপান্তর পর্বে মানবকর্মীদের সম্পৃক্ততা প্রযুক্তি খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।




































