প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রযুক্তির উৎকর্ষে নির্মিত স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট বর্তমানে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ ও শক্তিশালী মহাকাশযান হিসেবে পরিচিত। এর দুটি অংশ একত্রিত করলে মোট উচ্চতা দাঁড়ায় ৪০৭ ফুট, যা বিখ্যাত স্ট্যাচু অফ লিবার্টির চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ বেশি উঁচু। এযাবৎকালের উৎক্ষেপণ করা যেকোনো রকেটের তুলনায় এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর উৎক্ষেপণ থ্রাস্ট ১ কোটি ৮০ লাখ ১০ হাজার পাউন্ড-ফোর্স।
বিশাল আকৃতির এই রকেটের নিচের অংশটি ‘সুপার হেভি’ নামে পরিচিত একটি বুস্টার, যা রকেটটিকে আকাশে তুলতে প্রথম ধাক্কা দেয়। এর ঠিক ওপরে ১৭০.৬ ফুট দীর্ঘ স্টারশিপ মহাকাশযানটি অবস্থান করে এবং এর সুপার হেভি বুস্টারে ৩৩টি র্যাপ্টর ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়েছে। নাসার এসএলএস রকেটের তুলনায় এই রকেটের শক্তি দ্বিগুণ এবং এটি মহাকাশে ভারী বোঝা বহনের জন্য নকশা করা হয়েছে।
স্পেসএক্স এই রকেটের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে নিরাপদে মানুষ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবহন করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই যানের সুপার হেভি বুস্টারের নিজস্ব জ্বালানি ধারণক্ষমতা ৩ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন এবং স্টারশিপ অতিরিক্ত ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন জ্বালানি ধারণ করতে পারে। ফলে সবমিলিয়ে এই যানের সঙ্গে আরও ৫ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন জ্বালানি যুক্ত হয়।
চাঁদের পৃষ্ঠে নামার বিভিন্ন মিশনের ক্ষেত্রে স্টারশিপকে অবশ্যই পৃথিবীর কক্ষপথে পুনরায় জ্বালানি নিতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। স্পেসএক্স ও নাসা যৌথভাবে এই জটিল অভিযানের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে যাতে মহাকাশে জ্বালানি ভাণ্ডার ব্যবহার করা যায়। মহাকাশের চরম ঠাণ্ডা পরিবেশে জ্বালানি সংরক্ষণ ও স্থানান্তর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও নিখুঁত পরিকল্পনা এটি সম্ভব করে তুলছে।





































