অপরাধ ডেস্ক: বরিশাল নগরীতে এক কিশোরকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গাঁজার পুঁটলি হাতে ধরিয়ে ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। গত শনিবার দিনভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপহৃত ওই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম এই অভিযানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আটজনের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের তিনজন, হানিট্র্যাপ চক্রের তিনজন এবং চোরাই স্বর্ণ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দুজন রয়েছেন। গত দুই অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরীর রূপাতলী এলাকার বাসা থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেদোয়ান হোসেন রুমানকে ডেকে নিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। সেখানে তার হাতে দুটি গাঁজার পুঁটলি ধরিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে ওই কিশোরের পরিবার থেকে নগদ টাকা ও বিভিন্ন স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
পরিবারের ভয়ে দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও পরবর্তীতে গত ২৯ অক্টোবর ওয়াজ মাহফিল থেকে ওই কিশোর আবারও নিখোঁজ হয়। ছেলের সন্ধান না পেয়ে পরিবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। এরপর ভাটিখানা বাজার এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে অপহৃত কিশোরকে উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে চোরাই স্বর্ণালংকার কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে আটক করে পুলিশ।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে স্বর্ণ বিক্রির নগদ সাতাইশ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন, দুটি সোনার টানা এবং একটি সোনার আংটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আটজনকেই পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি। কিশোর গ্যাং ও হানিট্র্যাপ চক্রের এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন অভিযান এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।





































