রাজনীতি ডেস্ক: পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম বেতন কাঠামো আগামী দুই এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান। শ্রমিকদের দাবিদাওয়া পর্যালোচনার জন্য সরকার এরই মধ্যে একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং বোর্ডটি ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। বর্তমান সরকারের পদক্ষেপে শ্রমিকরা যেন কিছুটা স্বস্তিতে জীবনযাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতের সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে এবং তার পরের মাস থেকেই তা কার্যকর করা হয়েছিল। সেই হিসেবে বর্তমান মজুরি কাঠামোর মেয়াদ চলতি মাসেই শেষ হতে চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেওয়ার পর গত ১ নভেম্বর সরকার নতুন করে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে। মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা শেষে জানানো হয়েছে, নতুন এই বেতন কাঠামো আগামী ডিসেম্বর মাসে কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা তা হাতে পাবেন জানুয়ারি মাসে।
সভায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির সুযোগ নিয়ে একটি কুচক্রী মহল দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে ওই মহলটি কলকাঠি নেড়ে দেশের কলকারখানা, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করছে। কোনো শ্রমজীবী মানুষ কখনো শিল্পের ক্ষতি করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি জানান, মিল-কারখানা ধ্বংস হলে দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের সন্তানরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মিল-কারখানা ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বিগত পনেরো-ষোলো বছরে যারা মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল এবং অর্থ পাচার করেছিল, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে তারাই দেশ পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাই ২০২৪ সালের মতো এবারও দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এই ষড়যন্ত্রকারীদের সমুচিত জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।





































