ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

‘ড্রাকুলা’ নামে কি সত্যি কেউ ছিলেন?

ফিচার ডেস্ক: আইরিশ লেখক ব্র্যাম স্টোকারের ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত কালজয়ী গথিক উপন্যাস ড্রাকুলা সাহিত্যজগতে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই ভ্যাম্পায়ারকেন্দ্রিক সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক নতুন দুনিয়া গড়ে ওঠে। লোককথার অলৌকিক রক্তচোষা প্রাণী কাউন্ট ড্রাকুলা চরিত্রটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তবে এই অমর ভিলেন বা অ্যান্টিহিরো চরিত্রটি কেবল লেখকের কল্পনার সৃষ্টি নয়, এর পেছনে রয়েছে রক্তমাংসের মানুষের ঐতিহাসিক ঘটনা।

গবেষকদের মতে, ব্র্যাম স্টোকার এই চরিত্রটি তৈরির সময় মধ্য ইউরোপের লোকগল্প এবং নসফেরাতু বা অপমৃত্যুর শিকার মৃতদেহ সম্পর্কিত ভয়াল বিশ্বাসের সাহায্য নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তাকে এক সত্যিকারের ঐতিহাসিক নিষ্ঠুর চরিত্রও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। পঞ্চদশ শতাব্দীর রোমানিয়ার দুর্ধর্ষ রাজকুমার ভ্লাদ টেপেস ইতিহাসে শূলবিদ্ধকারী ভ্লাদ বা ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার নামে পরিচিত ছিলেন। মধ্য ইউরোপের ট্রানসিলভানিয়া অঞ্চলে জন্ম নেওয়া এই শাসক ছিলেন দ্বিতীয় ভ্লাদ ড্রাকুলের দ্বিতীয় সন্তান।

তার পিতা ভ্লাদ ড্রাকুল অটোমান সাম্রাজ্যের বিস্তার রোধ ও খ্রিস্টধর্ম রক্ষার্থে গঠিত অর্ডার অব ড্রাগন নামের গোপন সংঘের সদস্য ছিলেন। রোমানীয় ভাষায় ড্রাকুল শব্দের অর্থ ড্রাগন হওয়ায় ভ্লাদ ওই সংঘে যোগ দিয়ে ড্রাকুলা বা ড্রাগনের পুত্র নাম নেন। পরবর্তীতে ওয়াল্যাচিয়ার শাসক হিসেবে তিনি শত্রুদের দমনে চরম ও ভয়াবহ পন্থা বেছে নেন। অঙ্গচ্ছেদ, জীবন্ত চামড়া ছিলে ফেলা কিংবা ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করার মতো নৃশংস কৌশলের পাশাপাশি তিনি ইম্পেলমেন্ট বা শূলবিদ্ধ করার পদ্ধতি ব্যবহার করতেন।

১৪৬২ সালে অটোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযანকালে তিনি প্রায় ২০ হাজার বন্দি মানুষকে কাঠের শূলে বিদ্ধ করে লাশের বন তৈরি করেছিলেন। তৎকালীন বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে দাবি করা হয় যে তিনি শূলবিদ্ধ লাশের সারির মাঝখানে বসে খাবার খেতেন এবং শত্রুর রক্তে রুটি ভিজিয়ে খেতেন। ট্রানসিলভানিয়ার এই ভয়ংকর ইতিহাস এবং ড্রাকুলা নামটি ব্র্যাম স্টোকারকে কাল্পনিক চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করেছিল। বহু বছর কারাভোগের পর ১৪৭৬ সালে অটোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি নিহত হলেও তার নৃশংসতা ও নামটি ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে।

জনপ্রিয়

দেশে অনার ৬০০এসের বিক্রি শুরু, পাওয়া যাবে ড্যাজলে

‘ড্রাকুলা’ নামে কি সত্যি কেউ ছিলেন?

প্রকাশিত ০২:০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: আইরিশ লেখক ব্র্যাম স্টোকারের ১৮৯৭ সালে প্রকাশিত কালজয়ী গথিক উপন্যাস ড্রাকুলা সাহিত্যজগতে বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এই উপন্যাসের মাধ্যমেই ভ্যাম্পায়ারকেন্দ্রিক সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক নতুন দুনিয়া গড়ে ওঠে। লোককথার অলৌকিক রক্তচোষা প্রাণী কাউন্ট ড্রাকুলা চরিত্রটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তবে এই অমর ভিলেন বা অ্যান্টিহিরো চরিত্রটি কেবল লেখকের কল্পনার সৃষ্টি নয়, এর পেছনে রয়েছে রক্তমাংসের মানুষের ঐতিহাসিক ঘটনা।

গবেষকদের মতে, ব্র্যাম স্টোকার এই চরিত্রটি তৈরির সময় মধ্য ইউরোপের লোকগল্প এবং নসফেরাতু বা অপমৃত্যুর শিকার মৃতদেহ সম্পর্কিত ভয়াল বিশ্বাসের সাহায্য নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তাকে এক সত্যিকারের ঐতিহাসিক নিষ্ঠুর চরিত্রও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। পঞ্চদশ শতাব্দীর রোমানিয়ার দুর্ধর্ষ রাজকুমার ভ্লাদ টেপেস ইতিহাসে শূলবিদ্ধকারী ভ্লাদ বা ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার নামে পরিচিত ছিলেন। মধ্য ইউরোপের ট্রানসিলভানিয়া অঞ্চলে জন্ম নেওয়া এই শাসক ছিলেন দ্বিতীয় ভ্লাদ ড্রাকুলের দ্বিতীয় সন্তান।

তার পিতা ভ্লাদ ড্রাকুল অটোমান সাম্রাজ্যের বিস্তার রোধ ও খ্রিস্টধর্ম রক্ষার্থে গঠিত অর্ডার অব ড্রাগন নামের গোপন সংঘের সদস্য ছিলেন। রোমানীয় ভাষায় ড্রাকুল শব্দের অর্থ ড্রাগন হওয়ায় ভ্লাদ ওই সংঘে যোগ দিয়ে ড্রাকুলা বা ড্রাগনের পুত্র নাম নেন। পরবর্তীতে ওয়াল্যাচিয়ার শাসক হিসেবে তিনি শত্রুদের দমনে চরম ও ভয়াবহ পন্থা বেছে নেন। অঙ্গচ্ছেদ, জীবন্ত চামড়া ছিলে ফেলা কিংবা ফুটন্ত পানিতে সেদ্ধ করার মতো নৃশংস কৌশলের পাশাপাশি তিনি ইম্পেলমেন্ট বা শূলবিদ্ধ করার পদ্ধতি ব্যবহার করতেন।

১৪৬২ সালে অটোমান বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযანকালে তিনি প্রায় ২০ হাজার বন্দি মানুষকে কাঠের শূলে বিদ্ধ করে লাশের বন তৈরি করেছিলেন। তৎকালীন বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে দাবি করা হয় যে তিনি শূলবিদ্ধ লাশের সারির মাঝখানে বসে খাবার খেতেন এবং শত্রুর রক্তে রুটি ভিজিয়ে খেতেন। ট্রানসিলভানিয়ার এই ভয়ংকর ইতিহাস এবং ড্রাকুলা নামটি ব্র্যাম স্টোকারকে কাল্পনিক চরিত্র গঠনে অনুপ্রাণিত করেছিল। বহু বছর কারাভোগের পর ১৪৭৬ সালে অটোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি নিহত হলেও তার নৃশংসতা ও নামটি ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছে।