ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo টুজি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বাটন ফোন কী আর চলবে না? Logo খাগড়াছড়িতে আগুনে ৯ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই Logo নভেম্বরেই আসছে ৩ ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের আভাস Logo শ্রমিকের আড়ালে ভয়ংকর অপরাধী! Logo মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল: ইরান Logo ছেলের উপর হামলার ঘটনায় মামলা না নেওয়ায় ক্ষোভ আখতারুজ্জামানের, আটক ১ Logo বিচারহীনতার দশ বছর: সাঁওতালদের ভিটা বাগদাফার্মে কার স্বার্থে ইপিজেড? Logo গার্হস্থ্য অর্থনীতির অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে গভীর রাতে বিক্ষোভ Logo নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার ইঙ্গিত সামান্তার Logo নোবিপ্রবিতে ছাত্রদল নেতার উদ্যোগে সাপের কামড় প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

টুজি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বাটন ফোন কী আর চলবে না?

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে টু-জি প্রযুক্তি বিদায় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু টু-জি প্রযুক্তি সমর্থিত সাধারণ বাটন ফোনগুলোতে আর প্রচলিত মোবাইল কল করা সম্ভব হবে না। তবে যেসব বাটন ফোনে ভোল্টি বা ভয়েস ওভার লং টার্ম ইভোলিউশন প্রযুক্তি সমর্থন করে, সেগুলোর ব্যবহার সচল থাকবে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে কোটি কোটি গ্রাহক টু-জি ফোন ব্যবহার করছেন, যার বেশিরভাগই ভোল্টি প্রযুক্তি সমর্থন করে না। ফলে এই নেটওয়ার্ক বন্ধের প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে নতুন ফোন কেনার মুখোমুখি হতে হবে।

গত অক্টোবরে মোবাইল অপারেটর ও হ্যান্ডসেট উৎপাদকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে বিটিআরসি। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের পর নতুন কোনো টু-জি হ্যান্ডসেটের মডেলের অনুমোদন দেওয়া হবে না এবং পরবর্তীতে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণও বন্ধ করা হবে। সবশেষে আগামী দশকের শেষ নাগাদ গ্রাহক পর্যায়ে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই পুরো রোডম্যাপ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নেটওয়ার্ক পরিবর্তনের এই বিষয়ে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানান, টুজি নেটওয়ার্ক না থাকলেও মানুষ ওটিটি অ্যাপ বা ভোল্টি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারবে। রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টুজি হ্যান্ডসেটের উৎপাদন বন্ধ হলে মানুষের হাতে আর এসব ডিভাইস থাকবে না। তবে অ্যাপভিত্তিক কল এবং ভোল্টি প্রযুক্তির মধ্যে কিছু প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে, কারণ ভোল্টি ব্যবহার করে সরাসরি মোবাইল নম্বরেই কল করা যায়।

এদিকে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের ব্যবহৃত সাধারণ টু-জি ফোনের সাশ্রয়ী বিকল্প নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাজার ১ হাজার টাকার মধ্যে বাটন ফোন পাওয়া গেলেও স্মার্টফোনের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ মনে করেন, আকর্ষণীয় প্যাকেজ এবং কিস্তিতে হ্যান্ডসেট কেনার সুযোগ রাখলে গ্রাহকদের ফোরজিতে স্থানান্তর দ্রুত হতে পারে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যা প্রান্তিক মানুষের ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।

জনপ্রিয়

টুজি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বাটন ফোন কী আর চলবে না?

টুজি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, বাটন ফোন কী আর চলবে না?

প্রকাশিত ১০:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে টু-জি প্রযুক্তি বিদায় করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শুধু টু-জি প্রযুক্তি সমর্থিত সাধারণ বাটন ফোনগুলোতে আর প্রচলিত মোবাইল কল করা সম্ভব হবে না। তবে যেসব বাটন ফোনে ভোল্টি বা ভয়েস ওভার লং টার্ম ইভোলিউশন প্রযুক্তি সমর্থন করে, সেগুলোর ব্যবহার সচল থাকবে। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে কোটি কোটি গ্রাহক টু-জি ফোন ব্যবহার করছেন, যার বেশিরভাগই ভোল্টি প্রযুক্তি সমর্থন করে না। ফলে এই নেটওয়ার্ক বন্ধের প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে নতুন ফোন কেনার মুখোমুখি হতে হবে।

গত অক্টোবরে মোবাইল অপারেটর ও হ্যান্ডসেট উৎপাদকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে বিটিআরসি। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের পর নতুন কোনো টু-জি হ্যান্ডসেটের মডেলের অনুমোদন দেওয়া হবে না এবং পরবর্তীতে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণও বন্ধ করা হবে। সবশেষে আগামী দশকের শেষ নাগাদ গ্রাহক পর্যায়ে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই পুরো রোডম্যাপ সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নেটওয়ার্ক পরিবর্তনের এই বিষয়ে গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানান, টুজি নেটওয়ার্ক না থাকলেও মানুষ ওটিটি অ্যাপ বা ভোল্টি প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারবে। রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টুজি হ্যান্ডসেটের উৎপাদন বন্ধ হলে মানুষের হাতে আর এসব ডিভাইস থাকবে না। তবে অ্যাপভিত্তিক কল এবং ভোল্টি প্রযুক্তির মধ্যে কিছু প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে, কারণ ভোল্টি ব্যবহার করে সরাসরি মোবাইল নম্বরেই কল করা যায়।

এদিকে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের ব্যবহৃত সাধারণ টু-জি ফোনের সাশ্রয়ী বিকল্প নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাজার ১ হাজার টাকার মধ্যে বাটন ফোন পাওয়া গেলেও স্মার্টফোনের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ মনে করেন, আকর্ষণীয় প্যাকেজ এবং কিস্তিতে হ্যান্ডসেট কেনার সুযোগ রাখলে গ্রাহকদের ফোরজিতে স্থানান্তর দ্রুত হতে পারে। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকেও কম দামে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যা প্রান্তিক মানুষের ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।