ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

অন্যের আচরণে কষ্ট পাওয়া বন্ধ করার ৮ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে সহকর্মীর রুক্ষ মন্তব্য বা পরিবারের কারো খিটখিটে মেজাজ অনেকেই নিজের ওপর টেনে নেন, যাকে মনোস্তত্ত্বের ভাষায় সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা বলা হয়। এই অভ্যাসের ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার পাশাপাশি মেজাজ বিগড়ে যায় এবং তীব্র হীনমন্যতা তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, অন্যের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিজের ভেতরে শুষে নেওয়া বন্ধ করতে না পারলে মানসিক শান্তি বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মার্কিন মনোবিদ ডা. মিশেল পি. মেইডেনবার্গ জানান যে, কোনো অবজ্ঞাকে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া মানুষের একটি স্বয়ংক্রিয় মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া, যা ভেতরের নিরাপত্তাহীনতা থেকে জন্ম নেয়। আধ্যাত্মিক গুরু ডন মিগুয়েল রুইজের মতে, অন্যরা যা বলে বা করে তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব মনের ভেতরের বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। এছাড়া স্নায়ুরোগ-বিশেষজ্ঞ ডা. নাওমি আইজেনবার্গারের গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক প্রত্যাখ্যান মস্তিষ্কে শারীরিক ব্যথার মতোই তীব্র আঘাত তৈরি করে।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ডা. মেইডেনবার্গ আটটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল বাতলে দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে সবাইকে খুশি করার অবাস্তব চেষ্টা ত্যাগ করা। মানুষের মন পড়ার ভুল প্রবণতা বর্জন করে বাস্তব প্রমাণ খোঁজা এবং অন্যের রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণকে নিজের ব্যর্থতা না ভেবে তাদের নিজেদের ভেতরের মানসিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখা জরুরি। এছাড়া অন্যের খারাপ মেজাজ বা আবেগের সংক্রমণ থেকে দূরে থেকে পুরো বিষয়টি একজন দর্শক হিসেবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

প্রত্যাখ্যানকে নিজের যোগ্যতা নির্ধারণের মাপকাঠি না বানিয়ে বরং এটিকে মানুষের ভিন্ন চাহিদা ও পরিস্থিতির ফল হিসেবে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ। রূঢ় আচরণকে কষ্টের কারণ না বানিয়ে সেটির মাধ্যমে ব্যক্তির মানসিক পরিপক্বতা মূল্যায়ন করা উচিত। পুরোনো কথা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা বা রুমিনেইশনের পেছনে মানসিক শক্তির অপচয় রোধ করতে হবে।

মনোবিদ ডা. মিশেল মেইডেনবার্গ উল্লেখ করেছেন, নিজের মনের শান্তির জন্য অন্যের আচরণের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করার মাধ্যমেই জীবনের বড় মানসিক স্বাধীনতা আসে। অন্যের আচরণে প্ররোচিত না হয়ে নিজের মানসিক সীমানা নির্ধারণ করতে পারলে জীবন আরও শান্ত ও সুন্দর হয়ে ওঠে।

জনপ্রিয়

অন্যের আচরণে কষ্ট পাওয়া বন্ধ করার ৮ উপায়

অন্যের আচরণে কষ্ট পাওয়া বন্ধ করার ৮ উপায়

প্রকাশিত ০৪:৩৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে সহকর্মীর রুক্ষ মন্তব্য বা পরিবারের কারো খিটখিটে মেজাজ অনেকেই নিজের ওপর টেনে নেন, যাকে মনোস্তত্ত্বের ভাষায় সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা বলা হয়। এই অভ্যাসের ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ার পাশাপাশি মেজাজ বিগড়ে যায় এবং তীব্র হীনমন্যতা তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, অন্যের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নিজের ভেতরে শুষে নেওয়া বন্ধ করতে না পারলে মানসিক শান্তি বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

মার্কিন মনোবিদ ডা. মিশেল পি. মেইডেনবার্গ জানান যে, কোনো অবজ্ঞাকে ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া মানুষের একটি স্বয়ংক্রিয় মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া, যা ভেতরের নিরাপত্তাহীনতা থেকে জন্ম নেয়। আধ্যাত্মিক গুরু ডন মিগুয়েল রুইজের মতে, অন্যরা যা বলে বা করে তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব মনের ভেতরের বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। এছাড়া স্নায়ুরোগ-বিশেষজ্ঞ ডা. নাওমি আইজেনবার্গারের গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক প্রত্যাখ্যান মস্তিষ্কে শারীরিক ব্যথার মতোই তীব্র আঘাত তৈরি করে।

এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ডা. মেইডেনবার্গ আটটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশল বাতলে দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে সবাইকে খুশি করার অবাস্তব চেষ্টা ত্যাগ করা। মানুষের মন পড়ার ভুল প্রবণতা বর্জন করে বাস্তব প্রমাণ খোঁজা এবং অন্যের রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণকে নিজের ব্যর্থতা না ভেবে তাদের নিজেদের ভেতরের মানসিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখা জরুরি। এছাড়া অন্যের খারাপ মেজাজ বা আবেগের সংক্রমণ থেকে দূরে থেকে পুরো বিষয়টি একজন দর্শক হিসেবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

প্রত্যাখ্যানকে নিজের যোগ্যতা নির্ধারণের মাপকাঠি না বানিয়ে বরং এটিকে মানুষের ভিন্ন চাহিদা ও পরিস্থিতির ফল হিসেবে দেখা বুদ্ধিমানের কাজ। রূঢ় আচরণকে কষ্টের কারণ না বানিয়ে সেটির মাধ্যমে ব্যক্তির মানসিক পরিপক্বতা মূল্যায়ন করা উচিত। পুরোনো কথা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা বা রুমিনেইশনের পেছনে মানসিক শক্তির অপচয় রোধ করতে হবে।

মনোবিদ ডা. মিশেল মেইডেনবার্গ উল্লেখ করেছেন, নিজের মনের শান্তির জন্য অন্যের আচরণের পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করার মাধ্যমেই জীবনের বড় মানসিক স্বাধীনতা আসে। অন্যের আচরণে প্ররোচিত না হয়ে নিজের মানসিক সীমানা নির্ধারণ করতে পারলে জীবন আরও শান্ত ও সুন্দর হয়ে ওঠে।