আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গ্রিসের জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে পর্যাপ্ত শ্রমিকের অভাবে চরম সংকটের মুখে পড়েছেন দেশটির কৃষক ও জলপাই তেল উৎপাদকেরা। বিশেষ করে বৈধভাবে বিদেশি কর্মী আনার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে জলপাই সংগ্রহ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গ্রিসের মূলধারার সংবাদমাধ্যম কেথিমেরিনির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে দেশটির কৃষিখাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ থেকে প্রয়োজনীয় শ্রমিক আনার জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও নয়াদিল্লিতে অবস্থিত গ্রিসের দূতাবাসের সীমিত জনবল ও আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে চুক্তিটির সুফল মিলছে না। ভারতের নয়াদিল্লিতে গ্রিসের দূতাবাসে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের প্রায় ২০ হাজার শ্রমিকের আবেদন জমে থাকলেও তা প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র দুজন কর্মকর্তা।
বৈধপথে শ্রমিক পাওয়ার জটিলতার কারণে কৃষকদের মধ্যে নানা ধরনের বিপত্তি তৈরি হয়েছে এবং অনেক ছোট খামারের জন্য জলপাই সংগ্রহ আর্থিকভাবে লাভজনক থাকছে না। একদিকে স্থানীয় শ্রমিকের স্বল্পতা এবং বিদেশ থেকে শ্রমিক আনার প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে, অন্যদিকে জলপাই তেলের বাজারমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আগে প্রতি কেজি জলপাই তেল আট ইউরোতে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে তিন ইউরোর কোঠায় নেমে এসেছে, যার ফলে উৎপাদকদের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্রিসের পেশাজীবী জলপাই তেল সংস্থার সভাপতি মানোলিস ইয়ান্নুলিস জানিয়েছেন যে, শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে চলতি মৌসুমে প্রায় দশ শতাংশ জলপাই এখনো গাছেই রয়ে গেছে। সময়মতো ফল সংগ্রহ করতে না পারলে কৃষকের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি সার্বিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।




































