ঢাকা ০৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বৈদ্যুতিক ত্রুটি ঘিরে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ ছাত্রী  Logo রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে পাবিপ্রবিতে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে জুনিয়রদের মারধরের অভিযোগ Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী Logo যাত্রাবাড়ীতে বিপুল গাঁজাসহ তিন মাদককারবারী গ্রেপ্তার

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাবির জাতীয়তাবাদী ফোরামে শোক ও কালো ব্যাজ ধারণ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কালো ব্যাজ পরে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরাম।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে শোক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন গৃহিণী বা রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী ছিলেন না; তিনি ছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আপসহীন এক নেত্রী। তাঁর প্রয়াণ মানে জাতির একজন অভিভাবককে হারানো। তিনি শুধু জাতীয়তাবাদী দলের নয়, সংকটকালে পুরো দেশের নেত্রী হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব গ্রহণ, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তনে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।

তিনি আরও বলেন, তাঁর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এ উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল, কালো ব্যাজ ধারণ এবং ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামও স্মরণমূলক কর্মসূচি পালন করবে।
আমি বিশ্বাস করি, তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে নেতাকর্মীরা দেশ গঠনে এগিয়ে যাবে এবং তাঁর উত্তরাধিকার সেই পথেই অগ্রসর হবে।

সভাপতি অধ্যাপক মো. শামছুল আলম বলেন, আমাদের জাতির অভিভাবক হিসেবে তিনি ছিলেন মৃদুভাষী, সহনশীল ও মানবিক একজন মানুষ। গত ১৬ বছরে তাঁর ওপর বহু নির্যাতন ও অবিচার হলেও তিনি কখনো কারও প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। প্রিয় বাসা থেকে উৎখাত হয়েও তিনি দেশ ছাড়ার কথা ভাবেননি; দেশকেই তিনি ভালোবেসেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন।

এই শোকাবহ সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরাম কালো ব্যাজ ধারণ, গেরুয়া মসজিদে দোয়া মাহফিল ও কোরআন খতম এবং কালো ব্যানার প্রদর্শনসহ কর্মসূচি পালন করছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখেও এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মাদ খান, অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুর, অধ্যাপক মো. শাহাদাত হোসেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন হোসেন ও অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা। যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন ও অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ। সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল-আমিন খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুর রহমান খান, প্রচার সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক অধ্যাপক মো. ফজলুল করিম পাটোয়ারী অংশ নেন।

এছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া, পরিবেশ ও গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মো. আব্দুল হালিম এবং নারী বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক শামছুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সদস্য অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফা, অধ্যাপক মোহা. তালিম হোসেন, অধ্যাপক নাহিদ আখতার, মিসেস কামরুন নেছা খন্দকার, অধ্যাপক মুহাম্মাদ তারেক চৌধুরী, অধ্যাপক আবু ফয়েজ মো. আসলাম, অধ্যাপক এ. কে. এম. রাশিদুল আলম, অধ্যাপক তাসলিমা নাহার, অধ্যাপক মোহাম্মদ এমাদুল হুদা, অধ্যাপক কে. এম. জাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক মাসুম শাহরিয়ার এবং অধ্যাপক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর প্রায় একশতাধিক অফিসার, কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে।

এরআগে সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। এতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনা করে।

জনপ্রিয়

বৈদ্যুতিক ত্রুটি ঘিরে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ ছাত্রী 

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাবির জাতীয়তাবাদী ফোরামে শোক ও কালো ব্যাজ ধারণ

প্রকাশিত ০৭:১৩:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কালো ব্যাজ পরে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরাম।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে জাতীয়তাবাদী ফোরামের উদ্যোগে শোক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দীন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন গৃহিণী বা রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী ছিলেন না; তিনি ছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আপসহীন এক নেত্রী। তাঁর প্রয়াণ মানে জাতির একজন অভিভাবককে হারানো। তিনি শুধু জাতীয়তাবাদী দলের নয়, সংকটকালে পুরো দেশের নেত্রী হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছেন। ১৯৯১ সালে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব গ্রহণ, সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রবর্তনে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।

তিনি আরও বলেন, তাঁর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এ উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল, কালো ব্যাজ ধারণ এবং ব্যানার প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরামও স্মরণমূলক কর্মসূচি পালন করবে।
আমি বিশ্বাস করি, তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে ধারণ করে নেতাকর্মীরা দেশ গঠনে এগিয়ে যাবে এবং তাঁর উত্তরাধিকার সেই পথেই অগ্রসর হবে।

সভাপতি অধ্যাপক মো. শামছুল আলম বলেন, আমাদের জাতির অভিভাবক হিসেবে তিনি ছিলেন মৃদুভাষী, সহনশীল ও মানবিক একজন মানুষ। গত ১৬ বছরে তাঁর ওপর বহু নির্যাতন ও অবিচার হলেও তিনি কখনো কারও প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেননি। প্রিয় বাসা থেকে উৎখাত হয়েও তিনি দেশ ছাড়ার কথা ভাবেননি; দেশকেই তিনি ভালোবেসেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করে তিনি বহুবার কারাবরণ করেছেন এবং আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতবাসী করেন।

এই শোকাবহ সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ফোরাম কালো ব্যাজ ধারণ, গেরুয়া মসজিদে দোয়া মাহফিল ও কোরআন খতম এবং কালো ব্যানার প্রদর্শনসহ কর্মসূচি পালন করছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় রেখেও এসব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মাদ খান, অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুর, অধ্যাপক মো. শাহাদাত হোসেন, অধ্যাপক মোহাম্মদ মামুন হোসেন ও অধ্যাপক নাসরীন সুলতানা। যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন ও অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ। সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল-আমিন খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুর রহমান খান, প্রচার সম্পাদক এস এম মাহমুদুল হাসান এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক অধ্যাপক মো. ফজলুল করিম পাটোয়ারী অংশ নেন।

এছাড়া ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া, পরিবেশ ও গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মো. আব্দুল হালিম এবং নারী বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক শামছুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কার্যকরী সদস্য অধ্যাপক মো. গোলাম মোস্তফা, অধ্যাপক মোহা. তালিম হোসেন, অধ্যাপক নাহিদ আখতার, মিসেস কামরুন নেছা খন্দকার, অধ্যাপক মুহাম্মাদ তারেক চৌধুরী, অধ্যাপক আবু ফয়েজ মো. আসলাম, অধ্যাপক এ. কে. এম. রাশিদুল আলম, অধ্যাপক তাসলিমা নাহার, অধ্যাপক মোহাম্মদ এমাদুল হুদা, অধ্যাপক কে. এম. জাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক মাসুম শাহরিয়ার এবং অধ্যাপক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণীর প্রায় একশতাধিক অফিসার, কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করে।

এরআগে সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। এতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনা করে।