ঢাকা ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বেনাপোলে ১৩টি স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক Logo যশোরের ঝিকরগাছায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু Logo বাকৃবি শাখা ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি মঈন, সেক্রেটারি তানভীর Logo ১৩ দেশ নিয়ে পাবিপ্রবিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু আগামীকাল Logo আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে পাবিপ্রবিতে আসছেন চার বিদেশি গবেষক Logo হাবিপ্রবিতে হল সুপারের সিদ্ধান্তে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বিজয় ২৪ হলের শিক্ষার্থীরা Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি Logo ডুরার সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন আতিক হাসান শুভ Logo নৃত্য পরিচালক জাকিরকে স্মরণ করল আরমান-মুক্তি পরিষদ Logo বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

যশোরের বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি খৈলবাহী পণ্যচালানের ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১০টার দিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) থেকে কাস্টমস এই পণ্যবাহী ট্রাকটি জব্দ করে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছার আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ট্রাক (নং-ডাব্লিউবি-২৫ ক-৮৪১৫) গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ট্রাকটি বন্দরের ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ পণ্য ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশের আগেই বিশেষ ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড এলাকায় প্রবেশ করলে বন্দর ট্রাকটি আটকায়। পরে কাস্টমসকে অবহিত করলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নিট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি পাওয়া যায়।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পণ্য পাচারের সাথে জড়িত চক্রটি কৌশল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নাম ব্যবহার করেছে জানা গেছে। তবে সিঅ্যান্ডএফের পক্ষ থেকে তাদের নাম ব্যবহার করার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে অবগত করেছেন।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি এক আবেদনে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ট্রাকটি কিংবা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানকে যেন হয়রানি করা না হয়, সে অনুরোধও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত আছে কি না, তাও অনুসন্ধান করছে কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয়

বেনাপোলে ১৩টি স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক

বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাক জব্দ

প্রকাশিত ০৩:০৩:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

যশোরের বেনাপোল বন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি খৈলবাহী পণ্যচালানের ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ১০টার দিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড (ফলের মাঠ) থেকে কাস্টমস এই পণ্যবাহী ট্রাকটি জব্দ করে।

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছার আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ট্রাক (নং-ডাব্লিউবি-২৫ ক-৮৪১৫) গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত প্রায় ৯টায় বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ট্রাকটি বন্দরের ৩৫ নম্বর শেডে খালাসের জন্য যাওয়ার তথ্য দেখিয়ে বের হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকটিতে থাকা অবৈধ পণ্য ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশের আগেই বিশেষ ব্যবস্থায় সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বিকেল প্রায় ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ড এলাকায় প্রবেশ করলে বন্দর ট্রাকটি আটকায়। পরে কাস্টমসকে অবহিত করলে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়। এ সময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নিট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি পাওয়া যায়।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী জানান, ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে পণ্য পাচারের সাথে জড়িত চক্রটি কৌশল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল নাম ব্যবহার করেছে জানা গেছে। তবে সিঅ্যান্ডএফের পক্ষ থেকে তাদের নাম ব্যবহার করার প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে অবগত করেছেন।

সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি এক আবেদনে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ট্রাকটি কিংবা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধি জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানকে যেন হয়রানি করা না হয়, সে অনুরোধও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালান সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস, বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত আছে কি না, তাও অনুসন্ধান করছে কর্তৃপক্ষ।